ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতার ধর্মতলার ওয়াই-চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। দলের তরফে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র-বিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, বিধায়কদের উপস্থিতি নিয়ে যে ছবি সামনে এসেছে, তা আসলেই তৃণমূলের অন্দরের ভাঙ্গনকেই আরও স্পষ্ট করছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়াই মঞ্চে ধর্নাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মাত্র আটজন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কলকাতার মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মন্ত্রী সুজিত বসু, মন্ত্রী শশী পাঁজা, বিধায়ক বিবেক গুপ্ত, তাপস রায় এবং আরও কয়েকজন নেতা। কিন্তু দলের সিংহভাগ বিধায়কের অনুপুস্থিতি দলের করুন অবস্থাকে সামনে এনে দেয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যাঁদের নিয়ে দলীয় অন্দরে নানা আলোচনা চলছে, সেইসব নেতাদের অনেককেই ধর্নামঞ্চে দেখা যায়নি। ফলে বাকি দলগুলি দাবি করতে শুরু করেছে যে, তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিতের মধ্যে অসন্তোষ ও দূরত্ব ক্রমশ প্রকাশ্যে চলে আসছে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের দাবি, বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার কারণে অনেক বিধায়ক উপস্থিত থাকতে পারেননি।
ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বকেয়া অর্থ, বাংলার প্রতি বঞ্চনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ইস্যু তুলে ধরে সরব হন। অভিষেকের উপর হামলা এবং হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতি নিয়ে তুমুল সমালচনা করেন। পাশাপাশি তিনি দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তাও দেন। কিন্তু মঞ্চের বাইরের রাজনৈতিক আলোচনা আবর্তিত হয়েছে মূলত কারা এলেন এবং কারা এলেন না।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ধর্মতলার এই ধর্না কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র-বিরোধী আন্দোলনের চেয়ে বেশি করে আলোচনায় এসেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং নেতৃত্বের সামনে তৈরি হওয়া বর্তমান ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের কারণে। মাত্র আট বিধায়কের উপস্থিতি সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের শাসকদলের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।