ওঙ্কার ডেস্ক: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনার চার ঘণ্টা পরেও অব্যাহত রয়েছে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ঘটনাস্থলে নামানো হয়েছে ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনীকেও। এখনও পর্যন্ত ৬ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। SSKM-এ ২১ জনকে উদ্ধের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যাঁদের মধ্যে চিকিৎসারত অবস্থায় ৩ জনের মৃত্যু হয় বলে খবর। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার দুপুরে হঠাৎই নির্মীয়মাণ গুদামের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কংক্রিট, লোহার রড ও নির্মাণসামগ্রীর স্তূপের নীচে চাপা পড়েন একাধিক শ্রমিক। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগালেও পরে দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের দায়িত্ব নেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানো হয়। ধ্বংসস্তূপের বিশাল আকারের কারণে উদ্ধারকাজে নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। ভারী কংক্রিটের স্ল্যাব ও লোহার কাঠামো সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্রেন। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন, যাতে আরও কোনও অংশ ভেঙে পড়ে নতুন বিপদের সৃষ্টি না হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি দলও পৌঁছেছে। তাদের বিশেষ দক্ষতা ও সরঞ্জামের সাহায্যে উদ্ধার অভিযানকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। সেনা, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বয় রেখে একযোগে কাজ করছেন। দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও থামেনি উদ্ধার অভিযান।