ওঙ্কার ডেস্ক: গত বৃহস্পতিবার পার্ক স্ট্রিটের এক হোটেলে খুন হয়েছিলেন রাহুল দাস নামের এক যুবক। হোটেলের এক বদ্ধ খাট থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। পরে পুলিশি তদন্তে উঠে আসে শক্তিকান্ত বেহরা এবং সন্তোষ বেহরা নামের দুই ওড়িশার বাসিন্দার। ধৃত দুইজন এবং রাহুল সেদিন একসঙ্গে হোটেলে চেকইন করেছিলেন বলে সনাক্ত করেছে হোটেল কতৃপক্ষ। সেইমত তল্লাশি চালিয়ে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই হত্যাকারীদের। টাকা পয়সা সংক্রান্ত বিষয়ে বচসার কারণেই খুন বলে অনুমান পুলিশের।
সুত্রের খবর, ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে মদ্যপান করার কারণেই কিছু ঘন্টার জন্য হোটেলে ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা। মদ্যপ অবস্থায় তাঁদের মধ্যে বচসা বাঁধলে রাহুলকে শ্বাসরোধ করে খুন করে শক্তিকান্ত এবং সন্তোষ। পরে হোটেলের ঘরের বক্সখাটে মৃতদেহ ভরে পালিয়ে যায় তাঁরা। পুলিশ আগেই অনুমান করেছিল ধৃতরা তাঁদের নিজেদের রাজ্য ওড়িশাতে গা ঢাকা দিয়েছে। সেইমত তদন্তে নেমে ওড়িশা থেকেই গ্রেফতার করা হয় তাঁদের।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, মৃত রাহুল দাসের নামেও একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। চুরি, ছিনতাইয়ের মত নানা কেসে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। পুলিশের অনুমান টাকা সংক্রান্ত ব্যাপারে ঝগড়ার কারণেই রাহুলকে হত্যা করা হয়। তিনজনই অপরাধ জগতের সঙ্গে অতপ্রত ভাবে যুক্ত তা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই হত্যার নেপথ্যে আরও কেউ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হত্যার আসল কারন জানার জন্য ধৃত দুই ব্যাক্তিকে জেরা করছে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার এক দম্পতি ঐ হোটেলে ঘর ভাড়া নেওয়ার পরই বক্সখাট থেকে রাহুল দাসের মৃত দেহ উদ্ধার হয়। ২৪ অক্টোবর শুক্রবার সকালে ঐ দম্পতি হোটেল রুমে দুর্ঘন্ধের কথা হোটেল কর্মীদের জানালে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে শুরু করে তাঁরা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোন কিছু সন্দেহজনক না পাওয়া গেলে শেষমেশ খাট খুলতেই চমকে উঠেন প্রত্যেকে। মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর এক হোটেলকর্মী স্বীকারও করেন, পূর্ববর্তী ভাড়াটেরা ঘর ছাড়ার পর ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে রক্তের দাগ দেখতে পান। কিন্তু সেদিকে তেমন গুরত্ব না দিয়ে পরবর্তী ভাড়াটেদের ঘর দেওয়া হয়। পরে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়ানা তদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে শ্বাসরোধ করে খুন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করছে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ।