অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল লালবাজার। মণ্ডপশিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে তলব করেছে পুলিশ। বুধবারের মধ্যে তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মণ্ডপ তৈরির নকশা কী ছিল, ভিতরে দর্শকদের ঢোকা-বেরোনোর পথ কেমন করা হয়েছিল, অগ্নি-নির্বাপণ বা জরুরি নির্গমনের ব্যবস্থা ছিল কি না, এই সব বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে।
অন্যদিকে আহত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বয়ান নিচ্ছেন তদন্তকারীরা। কার গাফিলতিতে এই মৃত্যু, সেটাই খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
তদন্তে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। মণ্ডপ ও আশপাশে মোট ৩২টি ক্যামেরা লাগানো ছিল। কিন্তু তার মধ্যে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজই পাওয়া যাচ্ছে না বলে লালবাজার সূত্রে খবর। ঘটনার সময়ের ফুটেজ উদ্ধার করা গেলে ভিড় কীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেল, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে সিট প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নির্দেশে মণ্ডপ না ভেঙেই প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়েছে। শুক্রবার গেটের একাংশ কেটে শনিবার দুপুরে প্রতিমা বের করে নিরঞ্জন করা হয়। কিন্তু মণ্ডপ এখনও ক্রাইম সিন হিসেবে ঘিরে রাখা হয়েছে, তাই সেখানে লক্ষ্মীপুজো করতে দেওয়া হয়নি। ক্লাবের পাশে রাস্তার ধারে অস্থায়ী প্যান্ডেলে লক্ষ্মীপুজো হয়েছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই ঘোষক সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু ও কুশল মজুমদার রয়েছেন। অভিযোগ, মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে বলে ঘোষণা করতেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। কুশলের দাবি, এক পুলিশকর্মীর কথাতেই তিনি ওই ঘোষণা করেছিলেন। সেই দাবি খতিয়ে দেখছে সিট। সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে ৮০-৯০ জন পুলিশ ডিউটিতে থাকলেও তাঁরা মণ্ডপের ভিতরে ছিলেন না, বাইরে যান নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। ভিতরের দায়িত্বে ছিল বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা।