ওঙ্কার ডেস্ক: এক জনের মাথার দাম ছিল ২৫ লক্ষ টাকা, আরেক জনের মাথার দাম ছিল ২০ লক্ষ টাকা। পুলিশের কাছে অবশেষে আত্মসমর্পণ করলেন সেই শীর্ষ মাওবাদী দম্পতি। নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন পাসুনুরি নরহরি, ওরফে বিশ্বনাথ, ওরফে সালাই দা। তিনি বিহার-ঝাড়খণ্ড বিশেষ অঞ্চল কমিটির সম্পাদক ছিলেন। তাঁর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী মেদারা দানাম্মা, ওরফে লতা, ওরফে পুনম, ওরফে জোবাও মঙ্গলবার হায়দরাবাদে তেলেঙ্গানার ডিজিপি সিভি আনন্দের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। দুই শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মসমর্পণের ফলে মাওবাদী সংগঠন বড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬৪ বছর বয়সী নরহরি তেলেঙ্গানার হনুমাকোন্ডা জেলার সোমিদি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি র্যাাডিক্যাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট হয়ে এবং সিনিয়র মাওবাদী নেতা পুলি আঞ্জাইয়ার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ১৯৮২ সালে মাওবাদী আন্দোলনে যোগ দেন। পরে তিনি ছত্তিশগড়ের সুকমা অঞ্চলে সিপিআই (এমএল)-এর গণযুদ্ধ অভিযানে অংশ নেন। চার দশকের আত্মগোপনের জীবনে নরহরি মাওবাদী সংগঠনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। কারিগরি ও অস্ত্র ইউনিটেও কাজ করেছেন নরহরি। দক্ষিণ বস্তার ও নাগপুর কারিগরি দলে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে বিহার-ঝাড়খণ্ড বিশেষ এলাকা কমিটির সচিব হন। ২০১৭ সালে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন।
পুলিশ জানিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র, রকেট, গ্রেনেড, মর্টার এবং বুবি ট্র্যাপ তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণে নরহরির দক্ষতা ছিল। তিনি মাওবাদী ক্যাডারদের অস্ত্র তৈরি এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী, ৫৫ বছর বয়সী দানাম্মা, যিনি অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার বাসিন্দা, তিনিও একজন সিনিয়র মাওবাদী নেত্রী। বিহার-ঝাড়খণ্ড বিশেষ এলাকা কমিটির রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন দানাম্মা। এর আগে তিনি ২০০৪ সালে নাগপুরে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০১১ সালে জামিন পাওয়ার পর তিনি আবার সংগঠনে যোগ দেন। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী দম্পতিকে সরকারি পুনর্বাসন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।