ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সম্ভাব্য কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রায় ১৪ বছর পর কোনও মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিকের কলকাতায় আগমন ঘটতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে তিন দিনের ভারত সফরে আসতে পারেন রুবিও, যেখানে দিল্লিতে ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পাশাপাশি কোয়াডভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, দিল্লির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির ফাঁকেই একদিনের জন্য কলকাতায় আসতে পারেন তিনি। যদিও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য এই সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট উৎসাহ তৈরি হয়েছে। কলকাতাকে সফরসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ পূর্ব ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টন কলকাতা সফরে এসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই সফর ছিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কোনও মার্কিন বিদেশসচিবের সম্ভাব্য আগমন নিঃসন্দেহে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সফর আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিযোগিতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারত ও আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ফলে রুবিওর সফর শুধুমাত্র কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে কলকাতা সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে। নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হলে তা রাজ্যের বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
যদিও মার্কিন দূতাবাস বা ভারত সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ সফরসূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই সফর ঘিরে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। সবমিলিয়ে, মার্কো রুবিওর সম্ভাব্য কলকাতা সফর কেবল একটি কূটনৈতিক সফর নয়, বরং ভারত-মার্কিন সম্পর্ক, পূর্ব ভারতের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত ভারসাম্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।