ওঙ্কার ডেস্ক: ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উদ্বেগ। পানামার পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাঙ্কারে লিমপেট মাইন বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। ওই জাহাজে ছিলেন ২৭ জন ভারতীয় নাবিক। বিস্ফোরণের পরও তাঁদের প্রত্যেকেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।
রিপোর্ট অনুসারে, বিস্ফোরণের জেরে ট্যাঙ্কারটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজটি মাঝসমুদ্রে আটকে পড়েছে বলে খবর। হরমুজ প্রণালীতে লাগাতার হামলা ও পালটা হামলার পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সর্বানন্দ সোনোয়ালের এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় প্রোজেক্টাইল বিস্ফোরণের মুখে পড়ে। সেই জাহাজে ছিলেন দুই ভারতীয় নাবিক। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
এর পরদিন, ৩০ অক্টোবর, ফের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ‘এমটি লুইস ১’ (MT LOUISE 1) নামে পানামার পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারটি ২৭ জন ভারতীয় নাবিককে নিয়ে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় লিমপেট মাইনে আক্রান্ত হয় বলে খবর। তবে এই ঘটনাতেও কোনও ভারতীয় নাবিকের ক্ষতি হয়নি। পরপর দু’দিনের ঘটনায় মোট ২৯ জন ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সোনোয়াল।
কী এই লিমপেট মাইন? সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আকারে ছোট হলেও লিমপেট মাইন অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক। দেখতে সামুদ্রিক শামুকের মতো হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘লিমপেট’। জাহাজের মূল কাঠামোকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানোই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করে সমুদ্রে বিস্ফোরক বহন ও প্রয়োগের জটিলতা কাটাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে নতুন ধরনের কৌশল নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছিল। ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ সেনার একটি বিশেষ ইউনিটের প্রধান জো হল্যান্ড ছোট বস্তুর সঙ্গে বিস্ফোরক যুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। চৌম্বকীয় আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয় এই ধরনের মাইন।