ওঙ্কার ডেস্ক: দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়কের পদ খারিজের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। সেই সঙ্গে এদিন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
হাইকোর্টের এই রায়ের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘দলত্যাগ করলে সবাই পদ থেকে ইস্তফা দেন। আমিও সেটাই করেছি। সিপিএম, কংগ্রেস তাদের বিধায়কদের রক্ষা করতে পারেনি। আদালতের এই রায়ে আমাদের জয় হয়েছে।’ বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে বলেন, ‘মুকুল রায় অসুস্থ। তাঁর সুস্থতা কামনা করি। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক দ্বিচারিতা প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। নিজের বাবা ও ভাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর দলত্যাগ বিরোধী আইনের কথা মনে পড়ে না।’
উল্লেখ্য, ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ২০১৭ সালে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন। জোড়াফুল শিবিরের তৎকালীন সর্বভারতীয় সম্পাদক মুকুল রায় পদ্ম শিবিরে নাম লেখানোর কয়েকবছর পর তাঁর ছেলে শুভ্রাংশুও বাবার পথে হাঁটেন। ২০২০ সালে বিজেপিতে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ পান মুকুল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে জয়ী হন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের পরেই আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন মুকুল রায়।
