নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া : নদিয়ার নবদ্বীপে বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মৃত যুবকের নাম সঞ্জয় ভৌমিক। তার বাড়ি নবদ্বীপ থানার প্রাচীন মায়াপুর সপ্তম লেন এলাকায়! বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বন্ধু বান্ধব মিলে স্থানীয় একটি ক্লাবে মদ্যপান করে নিজেদের মধ্যেই বচসায় জড়িয়ে পড়ে তারা। মারধর শুরু হয়। সুত্রের খবর, সেসময় বাড়ি ফিরছিলেন নবদ্বীপ শহরের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কর্মী সঞ্জয় ভৌমিক। বচসা দেখে এগিয়ে গিয়ে তিনি তাদের ঝামেলা করতে বারণ করেন। তখন তারা সঞ্জয়ের ওপর চড়াও হয়। প্রাণ বাঁচাতে সঞ্জয় কোনওমতে নিজের বাড়িতে ঢুকে যান। পরিবারের অভিযোগ, রাতে তিনি যখন ঘুমোচ্ছিলেন সেই সময় জয় রায়, তারক দেবনাথ, নান্টু ও ঝন্টু-সহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন তাঁদের বাড়িতে ঢুকে সঞ্জয়কে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। তারপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় তারা।
হইচই শুনে ছুটে আসেন পড়শিরা। নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সঞ্জয়কে। সেখানেই চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় ওই যুবকের। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় ওই যুবকরা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী। রাজনৈতিক কারণেই তারা খুন করেছে সঞ্জয়কে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

ছেলেকে মেরে ফেলার অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে নবদ্বীপ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে সঞ্জয়ের পরিবার! তাকে পরিকল্পিত ভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মৃতর পরিবার ও স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা।
ঘটনার পরেই এলাকার মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। থমথমে গোটা এলাকা। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবারই ময়না তদন্ত করা হচ্ছে। এদিন সকালে মৃতের বাড়িতে আসে বিজেপির একটি প্রতিনিধী দল। এ বিষয়ে মৃতর মা অলকা ভৌমিক জানান, “এলাকায় যারা ক্লাবের সদস্য তারা প্রত্যেকেই তৃণমূল করে, তাদেরই ওঠাবসা থাকে সেই ক্লাবে”। তবে তাদের ছেলেকে এর আগেও আক্রান্ত হতে হয়েছে এই তৃণমূল সমর্থকদের কাছে এমনটাই অভিযোগ মৃত সঞ্জয় ভৌমিকের মায়ের। অন্যদিকে মৃত সঞ্জয়ের ময়না তদন্ত কল্যাণী এইমস হাসপাতালে করানোর দাবি তুলেছে পরিবার! রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও বিজেপি কর্মী খুনের কথা জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে কেউ এখনও মুখ খোলেননি
