নিলয় ভট্টাচার্য, নদিয়া: সেই প্রবাদবাক্য মনে পড়ে। জন্ম – মৃত্যু – বিয়ে, তিন বিধাতা নিয়ে। ঈশ্বর কখন কোথায় কার সাথে কার মিলন লিখে রাখেন, তা শুধুমাত্র তিনিই জানেন। জ্যোতিষ শাস্ত্রে এ বিয়ে রাজযোটক কিনা জানা নেই, তবে ঈশ্বরের ইচ্ছায় এ বিয়ে রাজযোটক তো বটেই।
তবে এখানে কোন বিয়ের কথা হচ্ছে জানেন? এখানে বিয়ে হয়েছে এক মুক ও বধিরের। আলাপের সূত্রপাত ফেসবুকে। তারপর একে অপরকে বোঝা, তারপর একে অপরকে ভালো লাগা- যারর পূর্ণতা পেল বিয়েতে। আর এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকলো নদিয়ার মাজদিয়া পুর্ণগঞ্জের বাসিন্দারা। এবারে আসা যাক মুক ও বধির পাত্র-পাত্রীর পরিচয়ে। পাত্র কৌশিক মিত্র নদিয়ার মাজদিয়ার বাসিন্দা ও বগুলার মেয়ে স্নেহা পোদ্দার। কৌশিক মাজদিয়া কলেজ থেকে বি এ পাস করে আই টি আই কলেজ থেকে ফিডার নিযে ডিপ্লোমা করেছে। মুখ ও বধির হলেও ভালো ফুটবল খেলতে পারে কৌশিক । যদিও বর্তমানে সে বেকার। চাকির ভীষণ প্রয়োজন। তাই হন্যে হয়ে ঘুরছে চাকরির আশায়। বাবা অবসর পাপ্ত সরকারী কর্মচারী। মা গৃহবধু। কৌশিকরা পরিবারে দুই ভাই দাদা রেলকর্মী। আর কৌশিকের স্নেহা এখন বিএ পড়ছে। পরিবারে মা, বাবা ও এক ভাই। বাবা ছোট ব্যবসায়ী আর মা গৃহবধু । দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁদের কথাবার্তা চলছিল ফেসবুকে। কৌশিক যেহেতু ফুটবল খেলে তাই খেলার মাঠই ছিল ওদের কাছে কার্যত বৃন্দাবন। প্র্যাক্টিসের ফাঁকে দেখ হতো, কথা হতো। কিছুদিন আগেই ওঁরা গোপনে বিয়ে করার চেষ্টা করেছিলেন। সম্ভব হয়নি। অবশেষে কৌশিকের বাবা মা মাজদিয়াতে নিজের বাড়িতেই অনুষ্ঠান করে পুরোহিত ডেকে শাস্ত্র মতে বিয়ে দিলেন। উভয় পরিবারের সম্মতিতেই চার হাত এক হল। ছেলের বিয়ের ব্যাপারে পাত্র কৌশিকের বাবা বলেন, ছেলের একটা কাজের ভীষণ প্রয়োজন। বাবা মায়ের আক্ষেপ আমরা বর্তমানে বেঁচে আছি তাই কোন অসুবিধা হচ্ছে না ঠিকই। আমরা না থাকলে কৌশিক এবং তার স্ত্রী-র কী অবস্থা হবে তা জানা নেই। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি সরকার একটু ফিরে তাকাক মুক ও বধির ছেলেটার দিকে। একই সাথে পাড়ার সকলে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করেছে দুজনকে। তাদের দাম্পত্য জীবন হোক সুখের।
একটু যদি মজা করে রসিয়ে বলা হয়, তবে বলা যেতেই পারে, এই বিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই আর পাঁচটা বিয়ের থেকে আলাদা তো বটেই। এই বিয়েতে হবে না স্বামী-স্ত্রীর নিত্য কলহ, থাকবে না চিৎকার চেঁচামিচি, আর যদি মনোমালিন্য হয়েও, তবুও তা আর ৫ জন জানতেই পারবে না। তবে প্রতিবেশীদের একটু সমস্যা হলেও হতে পারে। কেন জানেন ? কারণ তারা এই দম্পতির ঘরের আড়ালে কান পাতলেও ঘরের খবর পাবেন না, আর তাতে তাদের হয়তো মুখরোচক আলোচনায় কিছুটা ঘাটতি পড়ে যেতে পারে। কি বলেন আপনারা ?