ওঙ্কার ডেস্ক: কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢ়রার স্বামী রবার্ট বঢ়রার আগাম জামিন মঞ্জুর করল দিল্লির রাউজ় অ্যাভিনিউ আদালত। শনিবার হরিয়ানার শিকোহপুর জমি চুক্তি সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলায় ব্যবসায়ী বঢ়রার আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট-র দায়ের করা PMLA মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার পর এই জামিন পেলেন কংগ্রেস নেত্রীর স্বামী।
এই মামালায় ED-র অভিযোগ, ২০০৮ সালে বঢ়রার সংস্থা স্কাইলাইট হসপিটালিটি গুরুগ্রামের শিকোহপুর এলাকায় প্রায় ৩.৫ একর জমি মাত্র ৭.৫ কোটি টাকায় কিনেছিল। পরে ২০১২ সালে সেই জমিই রিয়েল এস্টেট সংস্থা DLF-কে প্রায় ৫৮ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জমি কেনাবেচার পুরো প্রক্রিয়ায় ভুয়ো তথ্য দেওয়া হয়েছিল এবং প্রভাব খাটিয়ে বাণিজ্যিক লাইসেন্স আদায় করা হয়। ওই প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের তথ্য উঠে এসেছে বলে ইডি-র দাবি। তদন্তকারি সংস্থার আরও অভিযোগ, সরকারি অনুমোদন ও প্রভাব খাটিয়ে জমির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছিল এবং ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’ তৈরি করা হয়। একইসঙ্গে সেই অর্থ বিভিন্ন স্তরে ঘুরিয়ে অন্যত্র পাচার করা হয়েছে। ED গত বছর এই মামলায় চার্জশিট দাখিল করে এবং রবার্ট বঢ়রাকে ‘মূল সুবিধাভোগী’ বলে উল্লেখ করে। বঢ়রা ছাড়াও চার্জশিটে একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার নামের উল্লেখ রয়েছে। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত সম্প্রতি সেই চার্জশিট গ্রহণ করে তাঁকে ও আরও আট জনকে সমন পাঠায়। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে প্রাথমিকভাবে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। তবে রবার্ট সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তাঁর দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা এবং তাঁকে ও গান্ধী পরিবারকে নিশানা করতেই তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি দিল্লি হাইকোর্টে যুক্তি দেন, যে সব অপরাধের ভিত্তিতে PMLA মামলা হয়েছে, সেগুলির অনেকগুলোই ২০০৮-১২ সালের সময় PMLA-র নির্ধারিত অপরাধ তালিকায় ছিল না। ফলে ED-র তদন্তের এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।