ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশে নর্মদা নদীকে ঘিরে একটি ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ট্যাঙ্কার থেকে প্রায় ১১ হাজার লিটার দুধ সরাসরি নদীর জলে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে ‘বিশ্বাস বনাম যুক্তি’ বিতর্ক নতুন করে উসকে উঠেছে আবার। পাশাপাশি জলদূষণ, দেশে খাদ্য সঙ্কট নিয়েও আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
জানা গিয়েছে, সেহোর জেলার এক মন্দিরে চৈত্র নবরাত্রি উপলক্ষে আয়োজিত ২১ দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেই এই আচার পালিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘অভিষেক’-এর উদ্দেশ্যে নর্মদা নদীতে দুধ ঢালা হয়। আয়োজকদের দাবি, নর্মদাকে ‘মা’ রূপে পূজা করার একটি প্রাচীন রীতি হিসেবেই এই কাজ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের আচার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত এবং তা বহুদিন ধরে চলে আসছে।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে দেশের বহু অংশে অপুষ্টি ও খাদ্যের অভাব এখনও বড় সমস্যা, সেখানে এত বিপুল পরিমাণ দুধ এভাবে নদীতে ফেলে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত। সমালোচকদের একাংশ এই ঘটনাকে অন্ধ বিশ্বাসের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন এবং এমন অপচয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবিও তুলেছেন।
পরিবেশবিদদেরও একাংশ এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, দুধে থাকা বিভিন্ন জৈব উপাদান নদীর জলে মিশে দূষণ বাড়াতে পারে। এতে জলের গুণমান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে এত বড় পরিমাণে দুধ একসঙ্গে ফেলা হলে তা নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, আয়োজক ও ভক্তদের একাংশের দাবি, পুরো অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এই আচার নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা অপ্রয়োজনীয় এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সামিল।