ওঙ্কার ডেস্ক: পাঞ্জাবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। একদিকে বিজেপি রাজ্যে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে জোরদার প্রচার চালাচ্ছে, অন্যদিকে শাসক আম আদমি পার্টিও (আপ) নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আপ নেতৃত্বের একাধিক পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়কে সামনে রেখে হিন্দু ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে দলটি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
সম্প্রতি আপের জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল পাঞ্জাবে একাধিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু মন্দিরগুলির সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে তীর্থযাত্রার ব্যবস্থা, রাজ্যজুড়ে এক মাসব্যাপী শিবস্তোত্রের আয়োজন এবং দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও আগামী ১ অগস্ট থেকে এক মাস ধরে পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে ‘হামারে রাম’ নাটক মঞ্চস্থ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অমৃতসরে জানকী ও লব-কুশ মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছে দল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে ধর্মীয় আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে আপ। বিশেষ করে রাজ্যের হিন্দু ভোটারদের মধ্যে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোই এই উদ্যোগগুলির অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। পাঞ্জাবে দীর্ঘদিন ধরেই শিখ ও হিন্দু—দুই সম্প্রদায়ের ভোটই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়কে রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা নতুন নয়। তবে এবার আপও সেই পথে হাঁটছে বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে বিজেপিও পাঞ্জাবে নিজেদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘন ঘন সফর, সাংগঠনিক বিস্তার এবং বিভিন্ন ইস্যুতে জনসংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজ্যে রাজনৈতিক জমি শক্ত করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। আগামী নির্বাচনে আরও বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার লক্ষ্য নিয়েই বিজেপি এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আপ সরকারের সামনে বেশ কিছু রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ, কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার দলত্যাগ এবং বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনা শাসক দলের জন্য চাপ তৈরি করেছে। বিরোধীরা অভিযোগ করছে, সরকার মূল সমস্যাগুলি থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও আপ নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্থানের উন্নয়ন মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এবং সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।