ওঙ্কার ডেস্ক: দেশে অবৈবাহিক একত্রিতবাস বা লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হয়ে এসেছে। আদালতের দারস্থ হয়েছেন অনেকে। গত সপ্তাহে লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে একটি রায়ে উত্তরপ্রেদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের থেকে ভিন্ন রায় আবারও সামনে এসেছে। আদালত জানিয়েছে কোনো বিবাহিত ব্যাক্তি বিবাহ বিচ্ছেদ ছাড়াই অন্য কারো সঙ্গে লিভ-ইনে থাকলে তাহলে তা আইনের চোখে গ্রাহ্য নয়। কিন্ত এই রায়ের মাত্র পাঁচ দিন আগেই এই এলহাবাদ হাইকোর্ট লিভ-ইন সম্পর্কের এক মামলার রায়ে বলা হয় দুই প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যাক্তি নিজের ইচ্ছায় একসঙ্গে থাকা অপরাধ নয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০ মার্চের একটি মামলায়। এক দম্পতি, যারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হয়েও একসঙ্গে বসবাস করছিলেন, নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, পরিবারের তরফে তাঁদের উপর আক্রমণ হতে পারে। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে আদালত জানায়, যদি কোনও ব্যক্তি ইতিমধ্যেই বিবাহিত হন এবং তাঁর স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকেন, তাহলে আইনত বিচ্ছেদ না নিয়ে অন্য কারও সঙ্গে সহবাস করা গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিবাহ একটি আইনি সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কে প্রত্যেক সঙ্গীর নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নামে সেই অধিকার খর্ব করা যায় না। এই মন্তব্যে আদালত মূলত বৈবাহিক সম্পর্কের আইনি ও নৈতিক দিকটিকেই গুরুত্ব দেয়।
তবে এই অবস্থানের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই, ২৫ মার্চ, একই হাই কোর্টের অন্য একটি ডিভিশন বেঞ্চ সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়। অন্য একটি মামলায়, যেখানে এক মহিলাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল, সেই মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত যুগল আদালতের কাছে সুরক্ষা চান। এই শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, যদি দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজেদের সম্মতিতে একসঙ্গে বসবাস করেন, তাহলে সেই সম্পর্ক নিজে থেকে কোনও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। আদালত স্পষ্ট করে যে, সমাজ বা নৈতিকতার বিচারে কোনও সম্পর্ক গ্রহণযোগ্য কি না, তা আলাদা বিষয়, কিন্তু আইনের চোখে সেটি অপরাধ কি না, সেটাই মূল বিবেচ্য।
এই দুই ভিন্ন পর্যবেক্ষণ সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে বিচারব্যবস্থার অভ্যন্তরে আইনের ব্যাখ্যার সামঞ্জস্যতা নিয়ে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও প্রাপ্তবয়স্কদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, অন্যদিকে বিবাহিত সম্পর্কের দায়বদ্ধতা এই দুইয়ের সংঘাত থেকেই এই ধরনের ভিন্ন ব্যাখ্যার উদ্ভব। অনেকের মতে, এই ধরনের পরস্পরবিরোধী রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলায় বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। আবার অন্যদিকে ভিন্ন পরিস্থিতি ও মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আদালতের ব্যাখ্যা বদলাতেই পারে, যা বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে দেশে এর আগেও বিভিন্ন আদালত একাধিকবার মতামত দিয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ হিসেবেই স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে এলাহাবাদ হাই কোর্টের সাম্প্রতিক এই দুই ভিন্ন অবস্থান নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতে এই বিষয়ে উচ্চতর আদালতের স্পষ্ট দিকনির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও জোরালো দাবি উঠছে।