ওঙ্কার ডেস্ক: প্রায় চার দশক ধরে আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকার পর আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী শীর্ষ নেতা চেল্লুরি নারায়ণ রাও ওরফে সুরেশ। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ে বেশ কয়েকটি বড় হামলার নেপথ্যে তিনি ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। সুরেশের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছেন আরও আট জন ক্যাডার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুরেশ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। অন্ধ্র-ওড়িশা সীমান্ত বিশেষ আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক ছিলেন তিনি। মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে প্রায় ৩৬ বছর রয়েছেন এই নেতা। সুরেশ ছাড়াও ছত্তিশগড় ও ওড়িশার প্লাটুন কমান্ডার, এলাকা কমিটির সদস্য ও দলীয় সদস্য-সহ আরও আট জন ক্যাডার সোমবার বিজয়ওয়াড়ায় অন্ধ্রপ্রদেশের পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল হরিশ কুমার গুপ্তের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
তদন্তকারীরা জানান, ২০১৮ সালে প্রাক্তন বিধায়ক কিদারি সর্বেশ্বর রাও এবং প্রাক্তন বিধায়ক সিভেরি সোমেশ্বর রাও-এর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সুরেশ। পুলিশ বাহিনীর ওপর একাধিক অতর্কিত হামলার সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি অনুসারে, সুরেশ ২৫ লক্ষ টাকা পাবেন। অন্যান্য ক্যাডাররা ১ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাবেন। আত্মসমর্পণকারী নয় জনের প্রত্যেককে ২০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন ডিজিপি। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পুলিশ একটি ইনসাস রাইফেল, দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, পাঁচটি .৩০৩ রাইফেল, পাঁচটি সিঙ্গেল ব্যারেল ব্রিচ লোডিং বন্দুক এবং ছয়টি সিঙ্গেল-শট রাইফেল-সহ ১৯টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া বিস্ফোরক, গোলাবারুদ এবং যোগাযোগ সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।