ওঙ্কার ডেস্ক: শ্রদ্ধা ওয়াকারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ছায়া এবার বিশাখাপত্তনমে। প্রেমিকাকে বাড়িতে ডেকে খুন করে দিলেন বিবাহিত নৌসেনা আধিকারিক। শুধু তাই নয়, দেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজের মধ্যে রাখেন অভিযুক্ত। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমে নৌসেনা আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে দেহাংশগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
রিপোর্ট অনুসারে, অভিযুক্ত নৌসেনা আধিকারিকের নাম চিন্তাদা রবীন্দ্র। তিনি বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী বাবার গাড়িতে গেলে ফাঁকা ঘরে প্রেমিকা পোলিপল্লি মৌনিকাকে ডাকেন। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে তাঁর বাড়িতে একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য মৌনিকাকে ডেকে পাঠান তিনি। কিন্তু সেই সাক্ষাৎ হয়ে উঠল মৌনিকার মৃত্যুর আমন্ত্রণ। দেখা হওয়ার পর দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এক সময় মৌনিকা খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রেখে দেন রবীন্দ্র।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছহে, অভিযুক্ত রবীন্দ্র ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ (আইএনএস) ডেগা-তে কর্মরত। ৩৫ বছর বয়স তাঁর। ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ২৯ বছর বয়সী মৌনিকার সঙ্গে আলাপ হয় রবীন্দ্রর। তদন্তে জানা গিয়েছে, দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুজনে প্রায়শই বিশাখাপত্তনমে পার্ক ও থিয়েটারের মতো বিভিন্ন জায়গায় দেখা করতেন। কয়েক সপ্তাহ আগে রবীন্দ্রের স্ত্রী বিজয়নগরমে তাঁর বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে প্রেমিকার সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য রবীন্দ্র রবিবার বিকেলে মৌনিকাকে ডেকে পাঠান। সন্ধ্যা নাগাদ দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। অভিযোগ, রবীন্দ্র মৌনিকাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন। এরপর দেহটি টুকরো টুকরো করে কেটে কিছু অংশ ব্যাগে ভরে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে ফেলে দেয়, আর বাকি অংশ বাড়ির ফ্রিজের মধ্যে রেখে দেয়।
প্রেমিকাকে খুনের পর রবীন্দ্র নিজে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। অভিযুক্ত দাবি করেন, মৌনিকা তাঁর কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা তাঁর স্ত্রীর কাছে ফাঁস করে দেবেন বলে হুমকি দিতেন মৌনিকা। পুলিশ জানায়, এই কারণে দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার দিনেও মৌনিকার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল রবীন্দ্রর। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্রিজ থেকে খণ্ডবিখণ্ড দেহাংশ উদ্ধার করে। তবে বাড়িতে মৌনিকার মাথাটি পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের অনুমান, রবীন্দ্র অন্য কোনও জায়গায় মাথাটি ফেলে দিয়েছে।
নৃশংস এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২২ সালের ১৮ মে-তে ঘটা শ্রদ্ধা ওয়াকারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা। দিল্লিতে শ্রদ্ধা ওয়াকারকে তাঁর লিভ-ইন পার্টনার আফতাব আমিন পুনাওয়ালা শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিল। অভিযোগ, খুনের পর দেহ টুকরো টুকরো করে একটি ফ্রিজে ভরে রাখে অভিযুক্ত। পরে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় সেই দেহাংশ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।