ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলায় এস আই আর আবহেই ফের বঙ্গ সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সুত্রের খবর অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলায় আসছেন শাহ। এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক চর্চা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ছে, আর সেই প্রেক্ষিতেই অমিত শাহের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের শাসক দল শাহের এই সফরকে কটাক্ষ করেছে।
জানা যাচ্ছে, কলকাতায় এসে অমিত শাহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। দলীয় সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংগঠনিক শক্তি ও দুর্বলতা, বুথ স্তরের প্রস্তুতি এবং আগামী দিনের নির্বাচনী কৌশল নিয়েই মূলত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং বিরোধী দলগুলির কৌশল মোকাবিলায় বিজেপির রণনীতি কী হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্য বিজেপিকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। অমিত শাহের উপস্থিতি রাজ্য নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংগঠনের ভেতরে থাকা অসন্তোষ বা সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নদিয়ার রানাঘাটে সভায় বলেছিলেন, “বাংলায় এখন জঙ্গলরাজ চলছে”। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পরে গেছে ইতিমধ্যেই। পাশাপাশি বিধানসভার নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের ঘনঘন বাংলায় আসা বেশ ভালো ভাবে নিচ্ছে না তৃণমূল শবির।
এদিকে, তাঁর সফর ঘিরে রাজ্যের শাসকদল সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও আলোচনা তুঙ্গে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এই সফর মূলত নির্বাচনী রাজনীতির অংশ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে সক্রিয় হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, এটি সাংগঠনিক সফর এবং দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। অমিত শাহের এই সফর যে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত ও আলোচনামুখর করে তুলবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সফর রাজ্য রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
