ওঙ্কার ডেস্ক : ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো—পাটনা, ভোজপুর, সারণ, বৈশালী, ভাগলপুর, বেগুসরাই, বক্সার, সমস্তিপুর, মুঙ্গের, কাটিহার, লাখিসরাই, খাগাড়িয়া, পূর্ণিয়া, মাধেপুরা এবং আরারিয়া।
বিহারে গত কয়েক দিনের লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বিহারের নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার সকাল ৬টার রেকর্ড অনুযায়ী, ভাগলপুরের সুলতানগঞ্জে গঙ্গা নদীর জলস্তর ছিল ৩৬.২১ মিটার, যা বিপদসীমার চেয়ে ১.৭১ মিটার বেশি। বালতারা ও কুরসেলায় কোশী নদী, খাগাড়িয়ায় বুড়ি গণ্ডক, দিঘা, গান্ধী ঘাট, হাতিদাহ, ভাগলপুর, কাহালগাঁও ও মুঙ্গেরে গঙ্গা, শ্রীপালপুরে পুনপুন, বেনিবাদে বাগমতী এবং দাউলিতে ঘর্ঘরা নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিহারে নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত অন্তত ১৫টি জেলা। প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে এ পর্যন্ত রাজ্যে ১১১.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। নেপাল থেকে বিহারে প্রবেশ করা নদীগুলির অববাহিকা অঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টি, সেইসঙ্গে রাজ্যে এবার ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বেশ কয়েকটি নদী ও জলধারা বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজ্যের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ১৫টি জেলায় প্রায় ৪৯.৩৬ লক্ষ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে- পাটনা, ভোজপুর, সারণ, বৈশালী, ভাগলপুর, বেগুসরাই, বক্সার, সমস্তিপুর, মুঙ্গের, কাটিহার, লাখিসরাই, খাগাড়িয়া, পূর্ণিয়া, মাধেপুরা এবং আরারিয়া।
প্রশাসন বন্যাদুর্গত এলাকায় ১,২৬০টি কমিউনিটি কিচেন এবং ১৩টি ত্রাণ শিবির পরিচালনা করছে। প্রায় ১১,০৬০ জনের জন্য আবাসন, খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার সকাল ১০টায় বাল্মীকি নগরে গণ্ডক নদীর ব্যারেজ দিয়ে ৯০,৬০০ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছিল। এই প্রবাহের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। বীরপুরের কোশী ব্যারেজে জল প্রবাহের পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ১,৫১,০১৫ কিউসেক। চলতি বছরে গত ২০ জুলাই সেখানে সর্বোচ্চ ২,৫৫,৪২৫ কিউসেক জল প্রবাহিত হয়েছিল।
ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বিভিন্ন জেলায় রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ২৭টি এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ১০টি দল মোতায়েন করা হয়েছে।