নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতাঃ বর্ষা বাড়তেই রাজ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার পার করেছে। ফলে এক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। সূত্রের খবর, রাজ্যে আক্রান্তের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১,০৭২। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা যে যথেষ্ট উদ্বেগের তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
মুর্শিদাবাদের পরেই ডেঙ্গি আক্রান্তের নিরিখে রয়েছে কলকাতা। শহরে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৫০০। সূত্রের খবর, চিৎপুর-কাশীপুর সংলগ্ন ৬ নম্বর ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে। এরপরেই তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। সেখানে আক্রান্ত প্রায় ৪৫০। সরকারি পরিসখ্যান অনুযায়ী, নদিয়া ও মালদা দু’জায়গাতেই আপাতত আক্রন্ত হয়েছেন ৪০০ জন মানুষ।
সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬৬ জন। হাওড়া ও হুগলিতে ৩০০-র বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সেই নিরিখে বর্ধমানে সংখ্যাটা কিছুটা কম। পূর্ব বর্ধমানে আক্রান্ত হয়েছেন ২৫৬ জন ও পশ্চিম বর্ধমানে আক্রান্ত ১৫৪। অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরে আক্রান্ত ১২৬। এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে আক্রান্ত ১০৪।
এমতাবস্থায় ডেঙ্গি দমনে কড়া স্বাস্থ্য দফতর। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমা জলে মশার লার্ভা নষ্ট করতে চলছে লার্ভিসাইড স্প্রে। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত জোরকদমে চলবে পরীক্ষা ও সচেতনতা অভিযান। অন্যদিকে, এই বছরই আসছে না ডেঙ্গির টিকা। আগামী বছর ডেঙ্গি মরসুমের আগে ডেঙ্গির টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। রবিবার লিভার ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা জানান আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব বহেল। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্বাস্থ্য দফতর একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, উপদ্রুত এলাকাগুলিতে মেডিক্যাল কলেজ ও বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে ফিভার ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। সরকারি পরিকাঠামো না থাকলে সাধারণ মানুষ যাতে স্বল্প খরচে বেসরকারি ল্যাবরেটরি থেকে রক্ত পরীক্ষা করাতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে ভেক্টর কন্ট্রোল টিম কীটনাশক ছড়ানোর কাজ জোরদার করেছে।