ওঙ্কার ডেস্ক: ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার বিহারে দ্বিতীয় এবং শেষ দফায় ভোট গ্রহন পর্ব শুরু হয়েছে। সকাল ৭ টা থেকে মোট ২০ টি জেলায় ভোট দেওয়া শুরু করেছেন ভোটাররা। আজ সন্ধ্যে ৬ টা অবধি চলবে ভোট প্রক্রিয়া। ৪৫,৩৯৯ বুথে প্রায় ৪ কোটি মানুষ দ্বিতীয় দফায় ভোট দেবেন। আগামী ১৪ নভেম্বর শুক্রবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ ।
গত বিধানসভা নির্বাচনে এই ১২২টি আসনের মধ্যে এনডিএ জোট পেয়েছিল ৬৬টি, মহাগঠবন্ধন ৪৯টি, আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম ৫টি, বিএসপি ১টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি আসন জিতেছিলেন। এবারও মূল লড়াই এনডিএ এবং মহাগঠবন্ধনের মধ্যে। এনডিএ-র পক্ষে লড়ছে বিজেপি, জেডিইউ, লোক জনশক্তি পার্টি ও হিন্দুস্তানি আওয়াম মরচা। অন্যদিকে মহাগঠবন্ধনে রয়েছে আরজেডি, কংগ্রেস, সিপিআই(এম) ও বাম জোটের অন্যান্য দল।
এই দফায় ভোট হচ্ছে সীমান্তবর্তী একাধিক জেলায় যেমন পূর্ব চম্পারণ, পশ্চিম চম্পারণ, সীতামঢ়ি, মধুবনী, পূর্ণিয়া, কিষণগঞ্জ, আরারিয়া, কাটিহার, ভাগলপুর, বেতিয়া প্রভৃতি। এই সমস্ত জেলাগুলি নেপাল, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন যাতে কোনওরকম অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুরো রাজ্য জুড়ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রায় ১,৬৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিহার স্পেশ্যাল আর্মড ফোর্সের আরও ১০০ কোম্পানি, রাজ্য পুলিশ ও সরকারি কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বে রয়েছে শসস্ত্র সীমানা বল (এসএসবি)-এর ২১০টি কোম্পানি। এছাড়া ভোটগ্রহণ শেষে ইভিএম নিরাপত্তার জন্য আরও ২৩টি কোম্পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আদর্শ আচরণবিধি জারি হওয়ার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৭.৩৪ কোটি টাকার অবৈধ নগদ, মাদক, অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই ভোটে প্রভাব ফেলতে দেওয়া হবে না।
দ্বিতীয় দফার এই ভোটকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। কারণ, প্রথম দফার ভোটের পর এই পর্যায়েই নির্ধারিত হতে চলেছে বিহারের ক্ষমতার সমীকরণ। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে তার প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলবে এই দফার ফলাফলের দিকেই। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য রাজ্যজুড়ে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।
