ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রবেশিকা ও বোর্ড পরীক্ষাকে ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যেই এবার সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সিবিএসই, নিট এবং জেইই-র মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে শিক্ষামহলে। অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের নাম, মোবাইল নম্বর, ই-মেল আইডি, ঠিকানা, অভিভাবকদের তথ্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত নথি অবৈধভাবে সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে। এমন দাবি তুলে লিঙ্কডিনের মত পেশাগত সমাজমাধ্যমে পোষ্ট করেছেন এক ব্যাক্তি। সেই পোষ্টে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সময়ে অনলাইন শপিং-এর মত ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা যাচাই করে ‘অ্যাড টু কার্ট’ করার মত বিকল্প অপশনও দেওয়া আছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং গোপন ডিজিটাল নেটওয়ার্কে পরীক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা গিয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। এই অভিযোগ সামনে আসতেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ এত বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার ব্যক্তিগত তথ্য যদি অসাধু ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছে যায়, তবে তা ভবিষ্যতে নানা ধরনের প্রতারণা, পরিচয় চুরি, ভুয়ো ফোনকল, আর্থিক জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধের পথ খুলে দিতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রের ডিজিটাল পরিকাঠামোর উপর নির্ভরতা অনেক বেড়েছে। অনলাইন আবেদন, ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন, ফলাফল প্রকাশ এবং কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য বিভিন্ন সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। সেই তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটিও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। ফলে তথ্য নিরাপত্তার বিষয়টি এখন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং জাতীয় স্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট মহলে তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলির সঙ্গে যুক্ত তথ্যভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনা জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, উন্নত সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক বিতর্কের আবহে এই তথ্য ফাঁসের অভিযোগ দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় তার উপর। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশের মতে, পরীক্ষার স্বচ্ছতার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেই তথ্যের সুরক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা।