ওঙ্কার ডেস্ক: দেশে জনবিন্যাসের ‘অস্বাভাবিক পরিবর্তন’ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রভাব খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমিত শাহ জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অংশে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার গঠনে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তার কারণ, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালাবে এই কমিটি। কেন্দ্রের দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণের ফলে দেশের জনবিন্যাসে বড় পরিবর্তন ঘটছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতি এবং প্রশাসনিক কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরকে। সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, দিল্লির প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বালাজি শ্রীবাস্তব, অর্থনীতিবিদ ড. শামিকা রবিকে এবং দেশের সেন্সাস কমিশনারকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি (ফরেনার্স-১) এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী এক বছরের মধ্যে কেন্দ্রকে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে এই প্যানেলের। প্রয়োজনে কমিটির মেয়াদ আরও ছ’মাস বাড়ানো যেতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই কমিটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ধরণ বিশ্লেষণ করবে। বিশেষ করে কোন কোন এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীগুলির জনসংখ্যার অনুপাত দ্রুত বদলাচ্ছে, তার কারণ খুঁজে দেখা হবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চল, অনুপ্রবেশ, বসতি গঠন এবং অভিবাসনের ধরণ নিয়েও বিশদ সমীক্ষা চালানো হবে। কেন্দ্রের মতে, এই ধরনের পরিবর্তন শুধু জনসংখ্যার ভারসাম্যের প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামো এবং উপজাতি সমাজের অস্তিত্বও জড়িয়ে রয়েছে।
অমিত শাহ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত বছরের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘হাই-পাওয়ার্ড ডেমোগ্রাফি মিশন’-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার পরই এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছিল। শাহর বক্তব্য, “অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে অস্বাভাবিক জনবিন্যাস পরিবর্তন বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।” তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক সমীক্ষা চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ, আটক এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বহিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর সুপারিশ করা। এছাড়া সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করা, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক ব্যবস্থার পরামর্শও দিতে পারে এই প্যানেল।