ওঙ্কার ডেস্ক: ১ জুন থেকে পেট্রোল, ডিজেল এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল-এর উপর রফতানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। নতুন হারের ফলে তেল সংস্থিগুলির রফতানি ব্যয় কিছুটা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেট্রোল, ডিজেল এবং এটিএফের উপর আরোপিত বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক বা উইন্ডফল ট্যাক্সে সংশোধন আনা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে কেন্দ্র একাধিকবার এই শুল্কের হার পরিবর্তন করেছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় রফতানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক কমানোর ফলে দেশের তেল পরিশোধনকারী সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি লাভজনকভাবে পেট্রোল, ডিজেল এবং বিমান জ্বালানি রফতানি করতে পারবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে ভারতীয় জ্বালানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করেছে যে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে বিক্রি হওয়া পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দামের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অবিলম্বে জ্বালানির দামে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নির্ধারণ মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, মুদ্রা বিনিময় হার এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির মূল্যনীতির উপর নির্ভর করে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেন্দ্র সরকার প্রতি পনেরো দিন অন্তর রফতানি শুল্কের হার পর্যালোচনা করে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এবার শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ ভারতীয় তেল শিল্পের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার আবারও শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।