ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার নামে সাইবার প্রতারণার এক নতুন চক্রের হদিশ মিলেছে শিলিগুড়িতে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল সাইবার প্রতারকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামনে আসতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, মেসেজিং অ্যাপ এবং অনলাইন মাধ্যমে অন্নপূর্ণা যোজনার নামে একাধিক ভুয়ো লিঙ্ক ও আবেদনপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু তথ্য জমা দিলেই সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে। এই প্রলোভনে পড়ে বহু মানুষ নিজেদের নাম, ঠিকানা, আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করছেন।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রতারকরা অত্যন্ত কৌশলে এমন ওয়েবসাইট ও অনলাইন ফর্ম তৈরি করছে, যা দেখতে সরকারি পোর্টালের মতো। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে আসল ও নকলের পার্থক্য করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই তথ্য সংগ্রহের পর ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে OTP বা অন্যান্য গোপন তথ্য চাওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি কোনও প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে গেলে কখনওই ফোনে বা অনলাইন বার্তার মাধ্যমে OTP, ব্যাঙ্কের পাসওয়ার্ড কিংবা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চাওয়া হয় না। তাই এই ধরনের কোনও বার্তা বা ফোন পেলে তা যাচাই না করে কোনও তথ্য দেওয়া উচিত নয়।
পুলিশের সাইবার সেল ইতিমধ্যেই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির উৎস খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট IP অ্যাড্রেস, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, আরও কেউ যাতে এই প্রতারণার শিকার না হন, তার জন্য শহর ও সংলগ্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারও চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্পের নামে প্রতারণার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত সরকারি সুবিধা পাওয়ার আগ্রহকে কাজে লাগিয়েই প্রতারকরা ফাঁদ পেতে থাকে। তাই কোনও প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য শুধুমাত্র সরকারি সূত্র বা প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের ওপর ভরসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের আবেদন, সন্দেহজনক কোনও লিঙ্ক, ওয়েবসাইট, ফোনকল বা মেসেজ পেলে সঙ্গে সঙ্গে তা স্থানীয় থানায় বা সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইনে জানাতে হবে। সামান্য অসতর্কতাই বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তদন্তকারীরা।