ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্র সরকার গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা করেছে। ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫’ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রকল্পের অধীনে শ্রমিকদের নতুন মজুরি হার বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সংশোধিত এই মজুরি কাঠামো অনুযায়ী, দেশের কোথাও আর এই প্রকল্পের আওতায় শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার কম হবে না। কেন্দ্রের দাবি, গ্রামীণ শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যেসব রাজ্যে এতদিন প্রকল্পের আওতায় দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার কম ছিল, সেখানে তা বাড়িয়ে ন্যূনতম ৩০০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৩০০ টাকার বেশি মজুরি কার্যকর ছিল, সেখানেও সংশোধিত হারে মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য নতুন মজুরি তালিকা কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে বছরে ১২৫ দিনের নিশ্চিত কাজের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের পরিধিও বাড়বে বলে মনে করছে কেন্দ্র। সরকার জানিয়েছে, কৃষিকাজের বাইরে যে সময়ে গ্রামীণ এলাকায় কাজের অভাব দেখা দেয়, সেই সময় এই প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা এবং গতি বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি প্রদান না হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে মজুরি প্রদানে বিলম্ব এবং অনিয়ম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের মতে, এই সংশোধিত মজুরি কাঠামো শুধু শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি করবে না, গ্রামীণ অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করবে। বাড়তি আয়ের ফলে গ্রামীণ এলাকায় ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা থাকায় গ্রামাঞ্চলের বহু পরিবার আর্থিকভাবে আরও সুরক্ষিত হবে বলেও সরকারের দাবি।