ওঙ্কার ডেস্ক: বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে “অবমাননাকর” মন্তব্য করায় এক আইনজীবী তথা ইউটিউবারকে ছয় মাসের জন্য কারাদণ্ড দিল আদালত। বিচার বিভাগ এবং আদালতের কাজকর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার জন্য দুটি ফৌজদারি মামলায় বুধবার দিল্লি হাইকোর্ট ইউটিউবার ও আইনজীবী গুলশান পহুজাকে এই সাজা দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পহুজা ‘ফাইট ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালান। ২০২৪ সালের অক্টোবরে পহুজা তাঁর চ্যানেলে তিন জেলা জজ—চারু আসিওয়াল, অজয় নারওয়াল এবং অজয় সিং পরিহারের নাম উল্লেখ করে ভিডিও আপলোড করে। পরে তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি শুরু হয়। পহুজা ব্যক্তিগতভাবে দিল্লির এই তিন বিচার বিভাগীয় কর্তাকে আক্রমণ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি কারোর মামলা তাদের সামনে তালিকাভুক্ত হয়, তবে সেই বাদীর ন্যায়বিচার আশা করা উচিত নয়।
বিচারপতি নবীন চাওলা এবং বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজার ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, ফৌজদারি অবমাননার জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও পহুজা “কোনও অনুশোচনা” বা “ভুল শুধরে নেওয়ার” চেষ্টা করেননি। নির্দেশে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের এখানে অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে, তাঁর মৌখিক বক্তব্য উপস্থাপনের সময় তিনি আবারও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বলেন, তিনি ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা থেকে ন্যায়বিচার আশা করেন না।’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘অবমাননাকারী কোনও অনুশোচনা দেখাননি। তিনি ভুল শুধরে নেওয়ার কোনও চেষ্টাও করেননি।’
আদালত জানায়, যথাযথ শাস্তি না দেওয়া হলে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তি আবারও এই ধরনের কাজ করতে পারে। প্রতিটি আদালত অবমাননার মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ২০০০ টাকা জরিমানা করে আদালত। দুই সাজা একযোগে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়। তবে, যেহেতু পহুজা সুপ্রিম কোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তাই হাইকোর্ট আদালত অবমাননা আইনের ধারা ১৯(৩) এর অধীনে ৬০ দিনের জন্য সাজা স্থগিত করেছে।