ওঙ্কার ডেস্ক: গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে কংগ্রেস নেতা হুসেন দলওয়াই মন্তব্য করেছেন যে, কেউ গরুকে মা হিসেবে মনে করতেই পারেন, তবে মুসলিমদের সেই বিশ্বাস গ্রহণ করতে বাধ্য করা যায় না। এমনকি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের গোমাতা মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
মঙ্গলবার মুম্বইয়ে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে দলওয়াই বলেন, আগে গরুকে রাজ্যের পশু বা গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করা হতো, কিন্তু এখন তাকে ‘মাতা’ বলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মুসলিম সম্প্রদায় বারবার আপস করার চেষ্টা করলেও তাদের আরও পিছিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, গরুকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী এবং রাজ্যের পশু হিসেবে সম্মান জানাতে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু সবাইকে গরুকে ‘মা’ হিসেবে মেনে নিতে হবে এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর গোরুকে ‘মা’ বলতে বাধ্য করা উচিত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
দলওয়াই আরও বলেন, কেউ গরুকে মা হিসেবে দেখতে পারেন, কিন্তু মুসলিম সমাজ সেই ধারণা মানতে বাধ্য নয়। তাঁর মতে, প্রত্যেকের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস রয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ভারতকে ‘ভারতমাতা’ বলা হয়, কিন্তু অন্য দেশ সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের সম্বোধন ব্যবহার করা হলে তা সবসময় যুক্তিসঙ্গত হয় না। এই প্রসঙ্গে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েলকে ভারতের ‘পিতৃভূমি’ আখ্যান প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করেন।
সম্প্রতি যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে এক জনসভায় গরুকে ‘গোমাতা’ উল্লেখ করে বলেন, মানুষের নিজের মায়ের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক, গরুর সঙ্গেও তেমনই আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই সম্পর্ক প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই এবং গোমাতাকে জাতীয় মাতার মর্যাদা দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো ঘোষণারও দরকার নেই।
বকরি ঈদকে ঘিরে বিশিষ্ট মুসলিম ধর্মীয় নেতার পক্ষ থেকে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি ওঠার পর এই বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তাঁদের যুক্তি, গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিলে গবাদি পশু জবাই কমবে এবং প্রাণীটির পবিত্রতা ও সুরক্ষা আরও নিশ্চিত হবে। আজমের দরগা শরিফ, নাখোদা মসজিদ, এবং হজরত নিজামুদ্দিন দরগার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ইসলামি ধর্মগুরু মুসলিম সম্প্রদায়কে ঈদ-উল-আজহার সময় গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। আজমেরের ধর্মীয় নেতা সৈয়দ সারওয়ার ক্রিস্টি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে সংসদে আইন এনে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা, গরু জবাই নিষিদ্ধকরণ এবং গোমাংস রপ্তানি বন্ধ করার আবেদন জানান।
অন্যদিকে সর্বভারতীয় জামিয়াতুল খুরেশও গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি তোলে এবং গোমাংস রপ্তানিকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সওয়াল করে। সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, বেআইনি গবাদি পশু জবাইয়ের মাধ্যমে কিছু সংস্থা বিপুল অর্থ উপার্জন করছে, যা পশুপালকদেরও ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে একাধিক ধর্মীয় নেতা গোরক্ষার নামে বেড়ে চলা স্বঘোষিত গোরক্ষক গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গবাদি পশু ব্যবসায়ী ও পরিবহণকারীদের হয়রানি করা হচ্ছে, যা সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।