ওঙ্কার ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানভিত্তিক একটি হানিট্র্যাপ চক্রের ফাঁদে পড়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সামনে আসতেই সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা চক্র। ধীরে ধীরে তাকে নিজেদের প্রভাবে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহে ব্যবহার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া যুবক জম্মুর সীমান্ত সংলগ্ন মাকওয়াল গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করা হয় এবং পরে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তাকে বিভিন্ন তথ্য ও ছবি সংগ্রহের জন্য প্ররোচিত করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, এই ধরনের কৌশলকেই ‘হানিট্র্যাপ’ বলা হয়, যেখানে আবেগ ও সম্পর্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলা হয় এবং আত্মসিদ্ধি করা হয়।
জম্মুর সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ যোগিন্দর সিং জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও তাদের মদতপুষ্ট গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরেই জম্মু-কাশ্মীরের যুবসমাজকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের ফলে সীমান্তের ওপার থেকে সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে যুবকদের বিভ্রান্ত করা, প্রলোভন দেখানো কিংবা হানিট্র্যাপের মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ছিল। সেই সুযোগে বিদেশি যোগাযোগকারীরা তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখে। ধীরে ধীরে তাকে এমন কিছু তথ্য ও ছবি পাঠাতে বলা হয়, যা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে ঠিক কী ধরনের তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত থাকতে পারে। ঘটনার পর যুবকের পরিবারও বিস্ময় প্রকাশ করেছে। পরিবারের দাবি, তারা জানতেন যে যুবকটি মোবাইল ফোনে অনেক সময় ব্যয় করত, কিন্তু বিদেশি কোনও চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বা সে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে তাদের কোনও ধারণা ছিল না। পরিবারের বক্তব্য, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তারাও হতবাক হয়ে পড়েছেন।
বর্তমানে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে হানিট্র্যাপ ও সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি ক্রমশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে এবং এ ধরনের ঘটনার মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি।