ওঙ্কার ডেস্ক: ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়েছে। একে একে নেতারা দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে সইকাণ্ড প্রাক্তন শাসকদলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছে। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালি কেন্দ্রের বিধায়ক সন্দীপন সাহা। এই দুই বিধায়কই সই কাণ্ড নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। যার পর থেকে জোড়াফুল শিবিরে ভাঙন আরও স্পষ্ট হয়েছে। ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে তৃণমূল কংগ্রেস সোমবারই বহিষ্কার করেছে দল থেকে। তার পর থেকে জল্পনা তৈরি হয়েছে তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিয়ে ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ার পথে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক।
মঙ্গলবার বিধানসভায় এসেছিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, ব্যক্তিগত কাজে তিনি বিধানসভায় এসেছেন। তাঁকে নতুন তৃণমূল গঠন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন ‘আমি আজ-এ বিশ্বাসী, কাল কী হবে জানি না, বলতে পারব না।’ উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ ছিল। কোন্দল প্রকাশ্যে আসার পর নতুন তৃণমূলের তত্ত্ব শোনা যায়। রাজনীতির অঙ্গনে কানাঘুষো শুরু হয় ঋতব্রত ৫০ বিক্ষুব্ধ বিধায়ককে নিয়ে নতুন তৃণমূল গঠন করতে চলেছেন। মঙ্গলবারই তিনি ৫০ জন বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দিতে চলেছেন জল্পনা তৈরি হয়। যদিও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, চিঠির বিষয়ে কিছুই জানেন না।
তৃণমূল কংগ্রেস ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী যদি তৃণমূলের দুই তৃতীয়াংশ বিধায়ক বিধানসভায় দাবি করেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। সেক্ষেত্রে স্পিকার তাঁদেরকে দলের প্রতীক বরাদ্দ করতে পারেন। দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনের জন্য ৫৩ থেকে ৫৪ জন বিধায়ক প্রয়োজন। কিন্তু আপাতত ঋতব্রতদের সঙ্গে রয়েছেন ৫০ জন বিধায়ক। ফলে আরও তিন থেকে চার জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন তাঁদের। পর্যবেক্ষকদের মতে, বুধবারের মধ্যে সেই সমর্থন জোগাড় করে ফেলতে পারেন তিনি।