ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট (সিইউইটি-ইউজি) পরীক্ষাকে ঘিরে শনিবার ব্যাপক বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকলেও কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় পরীক্ষার সূচনা বিলম্বিত হয়।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই তাঁরা কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সার্ভার সংক্রান্ত ত্রুটি ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে পরীক্ষা শুরু করতে দেরি হয়। কোথাও কোথাও পরীক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরীক্ষাকেন্দ্রে বসে থাকতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কিছু কেন্দ্রে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছিল এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয় বিরোধী শিবির। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলির পরিচালনায় বারবার গাফিলতি ও অব্যবস্থার ঘটনা সামনে আসছে। তাঁদের দাবি, লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষাগুলিতে এমন ধরনের ত্রুটি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিরোধীদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার উপর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা ক্রমশ কমছে। তিনি অভিযোগ করেন, একের পর এক জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা সামনে আসছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাই। আম আদমি পার্টির তরফেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাব এবং সমন্বয়ের ঘাটতির ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যার মাত্রা আরও বেড়েছে বলেও দাবি বিরোধীদের।
এদিকে এনটিএ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যার উৎস চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরু হতে দেরি হয়েছে, সেখানে পরীক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ সময় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সমস্যা আর না ঘটে, সেজন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারের পরীক্ষাতে সমস্যার সম্মুক্ষীণ হতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। প্রথমে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস পরে সিবিএসই বিভ্রাট। দুই ঘটনার একটিরও জবাবদিহিতা করেনি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি চেয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ভুক্তভোগী ছাত্র-ছাত্রীরা।