নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা : সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার অভিযোগ, ট্রলার আটক, ।দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থানার রামগঙ্গা ঘাট এলাকায় গভীর রাতে একটি মাছবোঝাই ট্রলার আটক হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য । সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সমুদ্রে মাছ ধরার উপর বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সেই সময়ে বিপুল পরিমাণ মাছভর্তি ট্রলার উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। কোথা থেকে এল এত মাছ? কারা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিল? আর সেই মাছ কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও মৎস্য দপ্তর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রামগঙ্গা ঘাট সংলগ্ন এলাকার কিছু বাসিন্দা গভীর রাতে একটি ট্রলারকে সন্দেহজনকভাবে ঘাটে ভিড়তে দেখেন। এরপর স্থানীয় মানুষজন ট্রলারটিকে ঘিরে ফেলেন। অভিযোগ, ট্রলারে বিপুল পরিমাণ মাছ বোঝাই ছিল, যা সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ট্রলারে প্রায় ৬৩ ক্যারেট মাছ ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ। ট্রলারের মাঝিসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা হয়েছে এবং পরে তা গোপনে ঘাটে নিয়ে আসা হচ্ছিল। তবে মাছের প্রকৃত উৎস, কখন মাছ ধরা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামগঙ্গা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ব্যান পিরিয়ড চলাকালীন নিয়ম ভেঙে কিছু অসাধু চক্র গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছে এবং সেই মাছ বিভিন্ন বাজারে, এমনকি কলকাতাতেও পাচার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের অবৈধ মাছ ধরার অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে মৎস্য দপ্তরও। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সহ-মৎস্য আধিকারিক সুরজিৎ বাগ জানান, “গতকাল গভীর রাতে রামগঙ্গা ফেরিঘাট থেকে একটি ট্রলারসহ বিপুল পরিমাণ মাছ আটক হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওই ট্রলারের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ট্রলারের মালিক ও মাঝির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ট্রলারে থাকা বিপুল পরিমাণ মাছ দীর্ঘক্ষণ ঘাটে পড়ে থাকায় তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাছগুলির যথাযথ সংরক্ষণ ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
রামগঙ্গার এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন কীভাবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে ? প্রশাসনের নজরদারিতে কোথাও কি ফাঁক রয়ে গিয়েছে? নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনও চক্র ? এখন সেই দিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী। তদন্তের অগ্রগতির দিকেও নজর রয়েছে সকলের।