ওঙ্কার ডেস্কঃ দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নয়া তথ্য। দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, হোটেলের রাঁধুনির গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটে। সামান্য আগুন এই পর্যায়ে পৌঁছয়। ইতিমধ্যে হোটেলের রাঁধুনি কেশব নেগিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার প্রায় ছ’ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ৬৫ বছরের কেশব নেগিকে। গ্রেফতার করে বর্তমানে তাঁকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
জেরার মুখে কেশব দাবি করেছেন, রান্নাঘরে গ্যাসে বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিল্ডিংয়ে। সেই দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যান। অন্যদিকে, হোটেলের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। হোটেলের লাইসেন্স, মালিকানা কাঠামো, আর্থিক লেনদেন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন পরিচালনা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে তাঁর বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, হোটেলের ব্যবস্থাপক জয় মিশ্র এখনও পলাতক। তাঁকে খুঁজতে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। মালিকের দাবি, হোটেলের দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জয়ই।
ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, অধিকাংশ অতিথির মৃত্যু আগুনে পুড়ে নয়, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র উদ্ধার হলেও সেগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
ফরেন্সিক দল পোড়া বৈদ্যুতিক তার, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করেছে। শর্ট সার্কিট, অতিরিক্ত বিদ্যুৎচাপ বা অন্য কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি আগুনের কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত বুধবার ‘ফ্লারিশ স্টেজ’ নামের বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। ওই ঘটনায় প্রাণ হারান ২১ জন। শেষ হয়ে যায় একটা আস্ত পরিবার। মৃতদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক ছিলেন।