ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির কালকাজি এলাকায় একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার ভোররাতে ‘পাঞ্জাবি তড়কা’ নামে একটি রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগুনের তীব্রতার মধ্যেই পরপর তিনটি এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আশপাশের বাসিন্দাদের। অনেকেই নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে রেস্তোরাঁটির ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন রান্নাঘর এবং অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তাপে একের পর এক এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিস্ফোরণের অভিঘাত আশপাশের এলাকাতেও অনুভূত হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। একাধিক ইঞ্জিন নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। আগুনের তীব্রতা এবং সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকায় উদ্ধারকাজ চালাতে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় দমকলকর্মীদের। কয়েক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় রেস্তোরাঁ সংলগ্ন একটি বহুতল আবাসনের মধ্যে আটকে পড়েছিলেন ৭৫ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা। চারদিকে ধোঁয়া ও আগুনের কারণে তিনি বেরিয়ে আসতে পারছিলেন না। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দমকল কর্মী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। অবশেষে তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, রান্নাঘর বা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কোনও ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও রেস্তোরাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে আসবাবপত্র, রান্নার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী পুড়ে যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, গ্যাস সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলিতে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।