নিজস্ব সংবাদদাতা : সই জালিয়াতি মামলায় রবিবার ফের ভবানীভবনে সিআইডির সদর দফতরে পৌঁছান তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডি তাঁকে দুপুরের মধ্যে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তৃণমূল সাংসদ সিআইডি দপ্তরে পৌঁছে যান তিনি।
কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেককে এই মামলায় রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত এও জানিয়েছিল যে, আগামী তিন সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে সিআইডি কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেবে না।
রবিবার সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে অভিষেকের গাড়ি সিআইডি দপ্তরে পৌঁছায়। তিনি প্রথমে গোয়েন্দা দফতরের রিসেপসন কক্ষে যান। সেখানে নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ও হাজিরা খাতায় সই করে তিনি দপ্তরের ভেতরে প্রবেশ করেন। ভবানীভবন চত্বরে সেসময় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। রবিবার ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সিআইডি আধিকারিকরা সকালেই দফতরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সই জালিয়াতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন। সেদিন তাঁকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। রাতে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সোজা চলে যান কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে।
সেদিনই সিআইডি তাঁকে রবিবার পুনরায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো সোমবার ও মঙ্গলবার বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সোমবার তাঁকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর সল্টলেক অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্কুল-চাকরিতে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বহু-কোটি টাকার একটি মামলায় তাঁকে তলব করা হয়েছে। ইডি ইতিমধ্যেই ৩ জুন এ বিষয়ে তাঁকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে।
মঙ্গলবার তাঁকে আবারও সিআইডি সদর দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে। রাজ্যের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়া এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সিআইডি কর্মকর্তারা ১২ জুন সন্ধ্যায় এ বিষয়ে তাঁকে নোটিশ দিয়েছিলেন। তবে সোমবার ও মঙ্গলবার তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে হাজিরা দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই দুটি মামলায় পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট থেকে আপাতত কোনো সুরক্ষা কবচ নেই অভিষেকের।