ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল জেলার সাইবার থানার বিশেষ অভিযানে একটি সাইবার প্রতারণা ও অর্থপাচার চক্র সম্পুর্নভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রাজস্থানের সিকার জেলা থেকে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা ‘ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম’ চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সাইবার অপরাধের অর্থ লেনদেন ও পাচারের কাজ চালাত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর সুমন কুমার নামে এক ব্যক্তি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমতি ছাড়াই ২ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে সাইবার থানা। অভিযোগকারীর ছেলে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, প্রথমে অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি নজরে আনেন। পরে তিনি ভারতে এসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে উঠে আসে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ প্রথমে কর্নাটকের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। এরপর সেই অর্থের উৎস গোপন করতে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ব্যাঙ্ক লেনদেনের বিশদ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং আইপি লগ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরগুলির হদিস পান। সেই সূত্র ধরেই রাজস্থানে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারণা চক্রের সন্ধান মেলে। সিকার জেলার কেরপুরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম অভিষেক সিহাগ, অঙ্কিত গড়ওয়াল, বিকাশ বেনিওয়াল এবং লোকেশ কুমার।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই চক্র অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত লেনদেনের মাধ্যমে সাইবার অপরাধের অর্থ পাচার করত। প্রতারণার টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত জুয়ার লেনদেন মেটাতে ব্যবহার করা হত। পুলিশ জানিয়েছে, ধরা পড়া ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে ভার্চুয়াল বা আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করত। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা কাজের সুযোগ দেওয়ার নাম করে বহু ছাত্র ও যুবকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করত। এরপর সেই অ্যাকাউন্টগুলিকে সাইবার প্রতারণার অর্থ স্থানান্তর ও স্তরবিন্যাসের কাজে ব্যবহার করা হত, যাতে অর্থের উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, আইপি লগ, ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য, বাজেয়াপ্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এই সংগঠিত অপরাধচক্রের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধৃত চার জনকেই আদালতে তোলা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অপরাধের অর্থের সম্পূর্ণ হদিস পেতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।