ওঙ্কার ডেস্ক: মুম্বই ও গুজরাটে আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মুম্বইয়ের পাশাপাশি গুজরাটের সুরাত, আঙ্কলেশ্বর এবং রাজকোটে মোট ২০টি স্থানে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই অভিযান চালানো হয় অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর আওতায়।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারি সেলিম ইসমাইল দোলা এবং তার সহযোগীদের পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্র। তল্লাশির আওতায় আনা হয়েছে প্রিকার্সর কেমিক্যাল সরবরাহকারী, শিল্প রাসায়নিক ব্যবসায়ী, সিন্থেটিক মাদক মেফেড্রোন উৎপাদন ও সরবরাহে জড়িত সন্দেহভাজন পাচারকারী, হাওলা অপারেটর এবং মাদক ব্যবসার অর্থে কেনা বেনামি সম্পত্তির মালিকদের।
তদন্তকারীদের দাবি, সেলিম দোলা পলাতক গ্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। চলতি বছরের মে মাসে তুরস্ক থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে তাকে ভারতে আনা হয়। ইডির সন্দেহ, দোলার নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বহু বছর ধরে মাদক উৎপাদন, পাচার এবং সেই ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ সাদা করার কাজে সক্রিয় ছিল।
মুম্বইয়ে দোলা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই ইডি অর্থপাচারের তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করে গোপন কারখানায় মেফেড্রোন তৈরি করত। পরে সেই মাদক বিভিন্ন রাজ্যে সরবরাহের পাশাপাশি অবৈধ পথে বিদেশেও পাচার করা হত। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্র মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ গোপনে স্থানান্তর এবং লুকিয়ে রাখতে হাওলা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করত। সেই অর্থ দেশ-বিদেশে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রেই সহযোগী ও বেনামি মালিকদের নামে সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে ইডির দাবি।
বর্তমান তল্লাশি অভিযানের মূল লক্ষ্য হল এই মাদকচক্রের আর্থিক লেনদেনের সম্পূর্ণ শৃঙ্খল এবং তাদের কার্যকলাপের নেপথ্যের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা। তদন্তকারীরা রাসায়নিক উৎপাদনকারী সংস্থা, মধ্যস্থতাকারী, আর্থিক লেনদেন পরিচালনাকারী, হিসাবরক্ষক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং হাওলা অপারেটরদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যুক্ত মাদক পাচার চক্রগুলির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। ইডির এই সর্বশেষ পদক্ষেপকে সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, তল্লাশি থেকে প্রাপ্ত নথি, ডিজিটাল তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তির নামও প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।