ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের এক রাস্তার নামকরণ হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামে! এমনই কথাতে উঠছিল জল্পনা। শেষ পর্যন্ত সেই সিধান্তে পড়ল শিলমোহর। হায়দ্রাবাদে মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের নাম পরিবর্তন করে হবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’। কংগ্রেস শাসিত এই রাজ্যের এমন সিধান্তে তৈরি হয়েছে জোর বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির ওই ঘোষণার পরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সমাজমাধ্যমে অনেকেই এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা জানতে চেয়েছেন, হায়দরাবাদের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট কী অবদান রেখেছেন, যা এমন সম্মান পাওয়ার মতো বিবেচিত হয়েছে। ঘটনাচক্রে, গত মাসের শেষপর্বে ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালত সেখানকার ‘জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস’-এর নাম বদলের প্রচেষ্টায় বাধ সেধেছিল। কেনেডি সেন্টারের নাম বদলে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ করার যে উদ্যোগ আমেরিকা সরকারের তরফে শুরু হয়েছিল, তা রদ করে ফেডারেল বিচারক বলেছিলেন, ‘‘এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেস চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’’ বিচারকের নির্দেশ ছিল— আগামী ১৪ দিনের মধ্যে কেনেডি সেন্টার ভবন, নামফলক, ডিজিটাল মাধ্যম এবং সমস্ত নথি থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে দিতে হবে। আদালতের রায়ের পরে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘আমার এতে কোনও যায় আসে না। এই ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানটিকে কংগ্রেসের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমি কাজ করব।’’ এর পরে আদালতের নির্দেশ মেনে কেনেডি সেন্টারের প্রবেশপথ থেকে সরানো হয়েছিল ট্রাম্পের নামাঙ্কিত ফলক।
এই সিদ্ধান্তটি ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরাম এবং তেলেঙ্গানা রাইজিং গ্লোবাল সামিট ২০২৫-এর সময় প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি ভারতের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে হায়দ্রাবাদের উত্থানে বহুজাতিক সংস্থাগুলির অবদানের কথা তুলে ধরেছিলেন। রাজ্য সরকার এই ধরনের প্রতীকী পদক্ষেপকে বৈশ্বিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার এবং একই সাথে হায়দ্রাবাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর একটি উপায় হিসেবে দেখে। কিন্তু প্রশ্ন হল কেবল মাত্র কি সে দেশের রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গেই ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এই সিধান্ত নিয়েছে সে রাজ্যের সরকার? নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারন রয়েছে?