ওঙ্কার ডেস্ক: দোকানে গিয়ে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে আর কাফ সিরাপ চাইলে আর পাওয়া যাবে না কাফ সিরাপ। এবার থেকে আর সহজে সাধারণ সর্দি-কাশির সিরাপও ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধের দোকান থেকে কেনা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের এক বিশেষ নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সব ধরনের তরল ওষুধ বা সিরাপই এখন থেকে শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শপত্র বা প্রেসক্রিপশন থাকলেই ফার্মেসি থেকে কিনতে পারা যাবে। এই নতুন নিয়মটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে সাধারণ মানুষের ওটিসি বা ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ ওষুধ কেনার দীর্ঘদিনের অভ্যাসে অত্যন্ত বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এতদিন পর্যন্ত কোনো রকম চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই দেশের যেকোনো ছোট-বড় ওষুধের দোকান থেকে কাশির সিরাপ বা অন্য কোনো তরল জাতীয় ওষুধ খুব সহজেই কিনে নেওয়া যেত। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতাদের এখন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন ফার্মেসিতে জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নয়া নীতিটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে এবং দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ওষুধের দোকানগুলিতে এই নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কড়া পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল শিশুদের ক্ষেত্রে কাশির সিরাপের অতিরিক্ত সেবন রোধ করা এবং অ্যান্টিবায়োটিক বা ড্রাগ-যুক্ত সিরাপের অপব্যবহার কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করা। সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তটি ‘ড্রাগস (পঞ্চম সংশোধন) নিয়ম, ২০২৬’-এর আওতায় নেওয়া হয়েছে, যা চলতি বছরের ৯ জুন তারিখে দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক দ্বারা জারি করা হয়েছিল।
এই নতুন আইনটি ভারতের অফিশিয়াল গেজেটে প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই দেশজুড়ে বলবৎ হয়েছে। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ড্রাগস আইন, ১৯৪৫-এর ‘তফসিল কে’ থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটিকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই মত আমাদের দেশের ড্রাগস আইনের তফসিল কে-তে মূলত এমন কিছু নির্দিষ্ট বিভাগের ওষুধের তালিকা থাকে, যেগুলি বিক্রয় এবং বণ্টনের ক্ষেত্রে সরকারের সাধারণ কঠিন নিয়মকানুন ও শর্ত থেকে কিছু ছাড় পেয়ে থাকে। এই তালিকার ১৩ নম্বর সিরিয়ালের অধীনে ৭ নম্বর আইটেমে এতদিন ‘সিরাপ’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেখান থেকে শব্দটি বাদ পড়ায়, এখন প্রেসক্রিপশন-নির্ভর অন্যান্য কড়া ওষুধের সমতুল্য হয়ে গেল সমস্ত সিরাপ। এর ফলে আগামী দিনে অনেকেই এই কফ সিরাপ কে নেশা দ্রব্য হিসাবে ব্যবহার করছে। এর ফলেই সরকারের তরফ থেকে এই সিধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।