ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলি জেলা হাসপাতালের এক হৃদয়বিদারক ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের মধ্যেই এক অসহায় রোগীকে নির্মমভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এক মহিলা কর্মীর বিরুদ্ধে। মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, মেঝেতে বসে থাকা এক রোগীকে পরপর একাধিকবার লাথি মারছেন অভিযুক্ত মহিলা। একই সঙ্গে তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেও শোনা যায়। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন অমানবিক আচরণ প্রকাশ্যে আসতেই স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রোগীটি অসহায় অবস্থায় মেঝেতে বসে ছিলেন। সেই সময় হাসপাতালের সাফাইকর্মী পিঙ্কি নামে এক মহিলা আচমকাই তাঁর ওপর চড়াও হন। কোনওরকম সহানুভূতি না দেখিয়ে একের পর এক লাথি মারতে থাকেন তিনি। ভিডিওতে রোগীকে আত্মরক্ষারও কোনও চেষ্টা করতে দেখা যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।
ঘটনার ভিডিও প্রশাসনের নজরে আসার পরই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অভিযুক্ত কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি হাসপাতালের কোনও কর্মীর কাছ থেকে এমন আচরণ কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। রোগীদের প্রতি মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রত্যেক স্বাস্থ্যকর্মীর কর্তব্য। এই ঘটনায় সেই দায়িত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন হয়েছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও সিনিয়র নার্সিং আধিকারিককে রাখা হয়েছে। তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরও নড়েচড়ে বসেছে। সমস্ত সরকারি হাসপাতালকে রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বা হাসপাতাল কর্মচারীর বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর বা অমানবিক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।