ওঙ্কার ডেস্ক: শেষপর্যন্ত ইরান ও আমেরিকা এই দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সফল হবে কিনা তা একমাত্র সময় বলবে। তবে পরিস্থিতি যে দিকেই গড়াক না কেন, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে কোনও সমস্যা হবে না বলেই বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে। ওই সূত্রের দাবি, ইরানের অবরোধ এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ ওই জলপথ দিয়ে ভারতমুখী তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল এবং আমেরিকা। পালটা প্রত্যাঘাত করে তেহরানও। এর পরেই ইরান সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তারা কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেবে না। ইরানের এই হুঁশিয়ারির পর ওই প্রণালীর দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে পড়েছিল শতাধিক আন্তর্জাতিক জাহাজ, যার মধ্যে ভারতেরই ছিল প্রায় দু’ডজন তেল এবং গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার।
কিছুদিন আগে হরমুজের জন্য ভারতের অন্দরে জ্বালানী সংকট দেখা দিয়েছিল। কূটনৈতিক স্তরে তৎপরতা শুরু করেন স্বয়ং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে একাধিক বার ফোনে দীর্ঘ কথা বলেন। নয়াদিল্লির সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী ভারতীয় জাহাজ চলাচলের বিশেষ ছাড়পত্র দেয় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের সরকার। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের সংযোগরক্ষাকারী মাত্র ২১ মাইলের এই ‘চোক পয়েন্ট’ বা হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত সংবেদনশীল জলপথ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়। ফলে এখানে ইরানের অবরোধ এবং তার প্রতিক্রিয়ায় প্রণালীর অদূরে মার্কিন নৌসেনার যুদ্ধংদেহী অবস্থান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ভারতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তেহরানের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ভারত নিজের জাহাজগুলির যাতায়াত সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে। বর্তমানে এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সুত্রে জানা গিয়েছে হরমুজে মোট ভারতের ১৩ টি জাহাজ আটকে রয়েছে। সব জাহাজ গুলিতে গ্যাস থেকে পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে। এই সমস্ত জাহাজ নিয়ে ভারতের অন্দরে কোনওরকম অসুবিধা হবে না বলে জানানো হয়েছে।