ওঙ্কার ডেস্ক: শহরকে জঞ্জাল ও আবর্জনা মুক্ত রাখতে প্রশাসনের তরফে সচেতনতা প্রচার করা হয়। সেই সঙ্গে থাকে শাস্তির বিধান। তবে আবর্জনা ফেলার জন্য মানুষকে জরিমানা না করে অভিনব পন্থা অবলম্বন করলেন হায়দরাবাদের পুর আধিকারিক। গুডিমালকাপুরে পুরসভার এক আধিকারিক পায়ে ধরে মানুষকে আবর্জনা না ফেলার জন্য আর্জি জানাচ্ছেন। তাঁর এমন কর্মকাণ্ড মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করাচ্ছে। শহরে আবর্জনা ফেলার সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করতে তিনি এই পন্থা বেছে নিয়েছেন। তাঁর এমন কাজ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে সমাজ মাধ্যমে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রামসিংহপুরা এলাকায় বাসিন্দারা বারবার রাস্তার ধারে আবর্জনা ফেলছিলেন। যার ফলে সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল। সাফাইকর্মীরা প্রতিদিন আবর্জনা পরিষ্কার করেন। তা সত্ত্বেও, আবর্জনার স্তূপ সেখান থেকে মোটেই কমতো না। যে সমস্যা ওই এলাকাকে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিল।
নিষেধ করা সত্ত্বেও বাসিন্দাদের এই রাস্তা নোংরা করার মানসিকতায় এক সময় হতাশ হয়ে পরেন গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (GHMC)-এর সুপারভাইজার মহেন্দ্র। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। শহরকে আবর্জনা মুক্ত করতে আলাদা কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। সতর্কবার্তা বা নিয়মিত স্বচ্ছ অভিযানের উপর নির্ভর না করে, তিনি ব্যক্তিগত এবং আবেগপূর্ণ পন্থা বেছে নেন। একদিন খুব সকালে মহেন্দ্র আবর্জনা ফেলার জায়গায় গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের রাস্তায় আবর্জনা না ফেলার জন্য অনুরোধ করতে শুরু করেন। কয়েক জনকে পায়ে ধরে এই অনুরোধ করেন তিনি। তাঁর এই কাজ মানুষের মানসিকতায় ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়। পরে ওই এলাকায় খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলার ঘটনা কমে গিয়েছে। যদিও কত দিন এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।