ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের ইতিহাসে প্রথম ছাড়পত্র পেল ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন। ‘কিউডেঙ্গা’ নামের ওই ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন বা সিডিএসসিও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ডেঙ্গু মোকাবিলার লড়াইয়ে ভারত আরও এগিয়ে গেল। রিপোর্ট অনুসারে ওই ভ্যাকসিনটি প্রস্তুত করেছে তাকেদা নামের সংস্থা। কিউডেঙ্গা ভ্যাকসিনটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ এর বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। পুরনো ডেঙ্গু ভ্যাকসিন ‘ডেংভ্যাক্সিয়া’-এর ক্ষেত্রে আগে ডেঙ্গু হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতো। কিন্তু কিউডেঙ্গার ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতা নেই।
জানা গিয়েছে, এই ভ্যাকসিন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া এবং আর্জেন্টিনা-সহ বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে ইতিমধ্যেই অনুমোদিত। ভারত এখন সেই তালিকায় যুক্ত হল। রিপোর্ট অনুসারে জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘তাকেদা’ কিউডেঙ্গা তৈরি করেছে। এটি ‘লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড টেট্রাভ্যালেন্ট’ ডেঙ্গু ভ্যাকসিন। তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজে দেওয়া হয় এই ভ্যাকসিন। ত্বকের নীচে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে যেসব দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, সেখানে এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।
বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুর যে প্রকোপ রয়েছে তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটনা ভারতে ঘটে। গত দুই দশকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১১ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এর ফলে হাসপাতালগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। এতদিন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভারত মশা নিয়ন্ত্রণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা গ্রহণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসার উপর জোর দিত। তবে কারা এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।