ওঙ্কার ডেস্ক: এবার নাম কাটা যাবে হার্শদ মেহেতার। উঠে আসবে আরেক মেহেতা রাজেশর নাম। সেই একই ছক একই প্লট। এই রাজেস মেহেতার রাজেশ এক্সপোর্ট নামে এক অয়েল রিফাইনারি ছিল। বেঙ্গালুরুর সোনা পরিশোধন ও গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’ এবং তার প্রোমোটার রাজেশ মেহতার বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। তার পরই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করেছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি। সেই নির্দেশের পর পরই আজ সংস্থার শেয়ারের দামে প্রায় ৫ শতাংশ ধস নামে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা লাইফ ইনসিওরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এলআইসি-র উপরেও। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজেশ এক্সপোর্টস-এ এলআইসি-র ১০.৮০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। ফলে এই শেয়ার পতনের জেরে এলআইসি-র শেয়ারও আজ ১ শতাংশের বেশি পড়ে গিয়েছে।
এক সর্ব ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৩ জুন সেবি ১০৯ পাতার একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে সেবি জানিয়েছে, প্রাথমিক প্রমাণ অনুযায়ী সংস্থাটি যে পরিমাণ রাজস্ব বা রেভিনিউ খাতায়-কলমে দেখিয়েছে, তার প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশই বাড়িয়ে দেখানো বা ভুয়ো হতে পারে। সেবি এই আর্থিক অসঙ্গতিকে অত্যন্ত ‘গুরুতর এবং নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সেবির রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’ এবং তার প্রোমোটার রাজেশ মেহতা তদন্তের কাজে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করেননি। বারবার চাওয়া সত্ত্বেও তাঁরা প্রধান অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে প্রবেশ করতে দেননি। গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক রেকর্ড সরবরাহ করেননি এবং প্রয়োজনীয় নথিও লুকিয়ে রেখেছেন তাঁরা।অসহযোগিতার কারণে ফরেনসিক অডিটররা সংস্থার সিংহভাগ লেনদেনের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেননি। নমুনা হিসেবে সংগৃহীত সামান্য কিছু লেনদেনেরই কেবল সঠিক নথি পাওয়া গেছে। শুধু দেশের ব্যবসাই নয়, সিঙ্গাপুর এবং সুইজারল্যান্ডের মতো বিদেশের মাটিতে থাকা একাধিক ভর্তুকিপ্রাপ্ত সংস্থা ও মেটাল রিফাইনারি ‘ভালক্যাম্বি’-র আর্থিক লেনদেনও এখন সেবির আতশকাচের তলায় রয়েছে।
উল্লেখ্য এই রাজেশ এনএসই এবং বিএসই-তে নথিভুক্ত ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’ মূলত সোনা পরিশোধন এবং গয়না তৈরির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও এঁদের ব্যবসা রয়েছে এবং দেশের বুকে ‘শুভ জুয়েলার্স’ ব্র্যান্ড নামে এঁদের একাধিক শোরুম রয়েছে। এই নামী সংস্থার এমন জালিয়াতির খবরে স্বাভাবিকভাবেই লগ্নিকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।