ওঙ্কার ডেস্ক: সন্দেশখালিতে ফের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশিতে এক তৃণমূল নেতার পুকুর থেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্রসামগ্রী উদ্ধার হওয়ার পর গোটা ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলিকে বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সেগুলির উৎস ও ব্যবহারের ইতিহাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, সম্প্রতি এলাকায় চলা একটি বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই ওই পুকুরে অনুসন্ধান চালানো হয়। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর জলাশয়ের তলা থেকে একে একে বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে দেশি ও আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি কিছু গোলাবারুদ ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশও পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। ঐ পুকুরের মালিকের খোঁজে পুলিশ।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, এতদিন ধরে পুকুরের মধ্যে অস্ত্র মজুত ছিল, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতেই অস্ত্রগুলি জলের তলায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অস্ত্রগুলি কতদিন ধরে সেখানে ছিল এবং কারা সেগুলি ব্যবহার করত, তা জানতে বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলির ফরেনসিক ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে জানা সম্ভব হবে, অতীতে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এই অস্ত্রগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। পাশাপাশি অস্ত্রগুলির সঙ্গে অন্য কোনও অপরাধচক্র বা বেআইনি নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বেআইনি অস্ত্র মজুতের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল এবং তারই প্রমাণ মিলেছে এই উদ্ধার অভিযানে। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, এর সঙ্গে দলের কোন যোগসূত্র নেই।
উল্লেখ্য, সন্দেশখালি গত কয়েক বছরে একাধিকবার জাতীয় স্তরের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে বেআইনি অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগকে ঘিরে প্রশাসনিক অভিযান চালানো হয়েছে। ফলে নতুন করে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সেই বিতর্ক আবারও সামনে চলে এসেছে।
তদন্তকারীরা এখন উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে রেয়াত করা হবে না এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।