ওঙ্কার ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা ছাত্র আন্দোলন আরও জটিল আকার নিল। রাঁচিতে বিধানসভা অভিযানের ঘটনায় প্রায় ৬০০ আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জনের নাম এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৫০০ জন ছাত্র ও অন্যান্য আন্দোলনকারীকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল এবং স্বাধীন তদন্তের দাবিতে আন্দোলনকারীরা যে অবস্থান নিয়েছেন, তার মধ্যেই এই পুলিশি পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস অনশনের নামার হুমকি দিয়েছেন।
রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে ‘ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন রিফর্ম মার্চ’-এর ব্যানারে চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ারা দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ করছেন। বৃহস্পতিবার আন্দোলন ২০তম দিনে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশর-এর একাধিক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি এবং স্বচ্ছতার অভাবের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি চাকরির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সামান্য অনিয়মও হাজার হাজার প্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দেয়। এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই আন্দোলনকারীরা কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল, নিয়োগ ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার এবং গোটা বিষয়টির স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের অন্যতম প্রধান দাবি, তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হোক অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরে থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করা হোক। রাজ্য সরকারের অধীনে চলা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে তাঁদের যে সংশয় রয়েছে, তা দূর করতেই এই দাবি বলে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য।
আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয় ১০ অগস্ট। সেদিন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়া বিধানসভার দিকে মিছিল করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিধানসভা চত্বরে যাওয়ার পথে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে তাঁদের আটকে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান এবং লাঠি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশ দাবি করে, কয়েকজন আন্দোলনকারী ব্যারিকেড অতিক্রম করার চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অন্যদিকে পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁরা মূলত শান্তিপূর্ণ ভাবে নিজেদের দাবি জানাতে যাচ্ছিলেন এবং তাঁদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।