ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই। দেশের হয়ে কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও শারীরিক সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আর সেই ব্যর্থতার পরেই নাকি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে কাজ করার অভিযোগে ভারতে প্রবেশ করেন রানা রউফ। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের হাতে হাবড়া থেকে পাক নাগরিকের গ্রেফতারির পর তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম পাকিস্তানের ফয়সলাবাদের বাসিন্দা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিজের আসল পরিচয় গোপন করে ভারতে বসবাস করছিলেন তিনি। ভারতীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের। সেই তথ্য পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়া হত কি না, এখন সেটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসটিএফের জেরায় রানা তাঁর শৈশবের কথা জানিয়েছেন বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। ছোট থেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেনাবাহিনীতে কাজ করে দেশের জন্য অবদান রাখার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু শারীরিক কারণে পাক সেনায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি। সেই ব্যর্থতার পর তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ কীভাবে তৈরি হল, কে তাঁকে প্রশিক্ষণ বা নির্দেশ দিয়েছিল এবং ভারতে তাঁর কাজের পরিধি কতটা ছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১২ সালের দিকে রানা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখানে ব্যবসায়ী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি। নেপালে থাকার সময়ই মহম্মদ ইজাজ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয় পরবর্তীকালে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। ইজাজের সূত্র ধরেই রানা পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেন বলে জানা যাচ্ছে। ভারতে আসার পর নিজের পাকিস্তানি পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন রানা এমনই অভিযোগ তদন্তকারীদের। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি ভুয়ো নথি ব্যবহার করেছিলেন বলে সন্দেহ। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড-সহ অন্যান্য সরকারি নথি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সেই নথি তৈরির পিছনে কোনও দালালচক্র বা সরকারি কর্মীদের যোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।