ওঙ্কার ডেস্ক: মহিলাদের জন্য লোকসভায় ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদের নিম্নকক্ষে পেশ করেছিল মোদী সরকার। ১৬ এপ্রিল সেই বিল পেশ হওয়ার আগে থেকেই এর বিরোধিতায় সরব হয়েছিল বিরোধীরা। বিরোধীদের প্রত্যাশিত প্রতিরোধে শুক্রবার লোকসভায় এই বিল পাশ হল না। যার পর থেকে ইন্ডিয়া জোটকে মহিলা বিরোধী বলে দেগে দিতে শুরু করেছে বিজেপি।
সংসদে বিশেষ অধিবেশনে দু’দিনের বিতর্ক শেষে শুক্রবার বিকেলে বিল নিয়ে ভোটাভুটি শুরু হয়। বিলের পক্ষে ভোট দেন ২৯৮ জন সাংসদ। আর বিপক্ষে ভোট দেন ২৩০ জন। বিলটি পাশ হতে উপস্থিত সাংসদদের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন ছিল মোদী সরকারের। কিন্তু তা না মেলায় বিলটি পাশ হয়নি। এদিন ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর বিরোধীদেরকে মহিলা বিরোধী বলে আক্রমণ করতে শুরু করে বিজেপি। যদিও রাহুল গান্ধী, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের দাবি মোদী সরকার নিজেদের স্বার্থে এই বিল পাশ করাতে চাইছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘বিজেপির ক্ষমতা কমে আসছে। সেই জন্য দেশের নির্বাচনী-মানচিত্র পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমরা এই চেষ্টা সফল হতে দেব না। সব বিরোধী দল আপনাদের হারাবেই।’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিলটিতে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিয়ম বদলানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায়, ‘আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই তিনি খেলার নিয়ম বদলে দিচ্ছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটি দারুণ গুণ আছে। সেই গুণটি হলো, যখনই তিনি বুঝতে পারেন, পরবর্তী নির্বাচনে তিনি হারতে চলেছেন, তখনই তিনি খেলার নিয়ম বদলে দেন।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল সংসদে তিনটি বিল পেশ করেন। প্রথমটি— লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। যার পোশাকি নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। এই সংশোধনী পাশ হলে লোকসভার সাংসদ সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হবে। দ্বিতীয়টি— লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং তৃতীয়টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। বিরোধীরা প্রথম বিলটিতে ভোট না দেওয়ায় পরের বিল দু’টি নিয়ে ভোটাভুটি করেনি মোদী সরকার।