ওঙ্কার ডেস্ক: প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে ভাইরাল হওয়া তরুণীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন করে তীব্র আকার নিয়েছে। সম্প্রতি সেই তরুণীর বিয়ে নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা আরও গভীর হয়েছে জাতীয় জনজাতি কমিশনের রিপোর্ট সামনে আসার পর। এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ঐ তরুণীর বিয়ের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, যা ঘিরে শুরু হয়েছে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক। নাবালিকার স্বামীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পকসো মামলায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কিছুদিন আগেই কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে মহারাষ্ট্রের যুবক ফরমান খানের সঙ্গে কুম্ভমেলা খ্যাত ঐ তরুণীর বিয়ে হয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তাঁদের সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। তবে বিয়ের পর থেকেই তরুণীর পরিবার অভিযোগ তোলে যে তিনি নাবালিকা এবং এই বিয়ে আইনত বৈধ নয়। যদিও সেই তরুনী নিজে দাবি করেছিলেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তদন্তে নামে জাতীয় জনজাতি কমিশন। তদন্তে উঠে আসে, কুম্ভমেলা খ্যাত ঐ তরুণীর জন্ম ২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বরের একটি সরকারি হাসপাতালে। সেই হিসেব অনুযায়ী বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ১৬ বছর। কমিশনের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিয়ের সময় ব্যবহৃত জন্মতারিখ সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে, যা ইঙ্গিত করছে সম্ভাব্য জালিয়াতির দিকে।
এই তথ্য সামনে আসতেই বিষয়টি আইনি দিক থেকে গুরুতর রূপ নেয়। তরুণীর স্বামী ফরমান খানের বিরুদ্ধে পকসো আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি নাবালিকা বিয়ে এবং নথি জালিয়াতির অভিযোগও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীরা এখন খুঁজে দেখছেন, এই বিয়ের ক্ষেত্রে আর কারা যুক্ত ছিলেন এবং কোনও পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন করা হয়েছিল কি না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ মেলায় রুদ্রাক্ষ মালা বিক্রি করতে গিয়ে প্রথম নজরে আসেন ঐ তরুনী। তাঁর চেহারা ও চোখের আকর্ষণে দ্রুতই তিনি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর কাছে একাধিক প্রস্তাব আসতে থাকে, যা তাঁকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।