ওঙ্কার ডেস্ক: ভয়াবহ ঘটনা কর্নাটকে। অন্য ছেলের সঙ্গে সমাজ মাধ্যমে কথা বলার কারণে এক নাবালিকাকে গুলি করে খুন করল তার কথিত প্রেমিক। নিহত কিশোরী ও অভিযুক্ত কিশোর লিভ ইন সম্পর্কে ছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। খুনের পর এক তুতো ভাই এবং কাকার সঙ্গে মিলে নাবালিকার দেহ বাড়ির কাছে একটি জমিতে পুঁতে দিয়েছিল অভিযুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ জুলাই এই ঘটনাটি ঘটলেও প্রকাশ্যে এসেছে শুক্রবার। ইতিমধ্যে তদন্তে নেমে অভিযুক্তপ তিন জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরু দক্ষিণ জেলার কনকপুরা এলাকার কোডিহাল্লি থানা এলাকার কেম্পালানাথা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। মেয়েটির বাবা-মা নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে শুক্রবার এই অপরাধের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এক আধিকারিক জানান, নিহত কিশোরী সাথানুরের ভেঙ্কটরায়াদোডডির বাসিন্দা। সে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। অভিযুক্ত কিশোরের বয়স ১৬ বছর। সে-ও স্কুলছুট। বাকি দুই ধৃত হল ওই কিশোরের ভাই পুট্টামাদা (১৯) এবং কাকা হরিশ (৪০)। দুজনেই পেশায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা কেম্পালানাথা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ওই আধিকারিক জানান, সমাজ মাধ্যমে কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে দুজনের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়েটি ওই গ্রামে ছেলেটির সঙ্গে প্রায় এক মাস ধরে বসবাস করছিল। এমনকি নাবালক ছেলের এই সম্পর্কের কথা জানত তার বাবা মাও।
অভিযোগ, ১০ জুলাই মেয়েটি ইনস্টাগ্রামে অন্য এক ছেলের সঙ্গে চ্যাট করছিল। সেটি দেখে ফেলে অভিযুক্ত কিশোর। এর পর মেয়েটির সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে দেয়। তাকে মারধরও করে বলে অভিযোগ। রাগের মাথায় এক পর্যায়ে পুরনো দেশি বন্দুক দিয়ে তার মুখে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই কিশোরীর মৃত্যু হয়। এরপর অভিযুক্ত তার দাদা ও কাকাকে ডেকে তিন জন মিলে মৃতদেহটি জমিতে পুঁতে দেয়। পুলিশ মেয়েটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। কোডিহাল্লি পুলিশ হত্যা এবং পকসো আইনে মামলা দায়ের করেছে। শনিবার মেয়েটির মৃতদেহ মাটি খুঁড়ে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।