ওঙ্কার ডেস্ক: লখনউয়ে এক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় পণপ্রথাজনিত নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম মানসি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট পরিচিত মুখ ছিলেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করতেন। ২০২৪ সালে তাঁর বিয়ে হয় সাগর রাজপুত নামে এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই মানসীর উপর পণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হত বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার।
মৃতার পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় সামর্থ্য অনুযায়ী নগদ অর্থ, গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী এবং অন্যান্য উপহার দেওয়া হলেও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। পরবর্তীকালে একটি গাড়ি-সহ আরও মূল্যবান সামগ্রী দাবি করা হয়। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় মানসীকে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, মানসী একাধিকবার তাঁদের কাছে নিজের দুর্দশার কথা জানিয়েছিলেন। শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং অত্যাচারের কথাও তুলে ধরেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েকবার আলোচনা ও মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
সম্প্রতি মানসীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছন। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও মৃতার পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের দাবি, মানসীকে খুন করার পর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্বামী সাগর রাজপুত-সহ তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে পণজনিত মৃত্যু এবং সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন শ্বশুর, দেওর, দুই ননদ এবং পরিবারের আরও এক মহিলা সদস্য। ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত দেশে পণজনিত কারণে গৃহবধু হত্যার ঘটনা নতুন নয়। গ্রামের সাধারণ জীবনযাপন করা ঘর থেকে শুরু করে দেশের মহানগরে থাকা উচ্চবৃত্ত চাকুরীজীবী পরিবারের ঘটনা খবরের শিরোনামে উঠে আসে। সম্প্রতি ত্বিশা শর্মা থেকে শুরু করে দীপিকা নগর হত্যাকান্ডে বারবার শ্বশুরবাড়ির পণের জন্য অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসে। উল্লেখ্য ভারতে সংবিধানের পণ নিষেধাজ্ঞা আইন, ১৯৬১ অনুযায়ী বিবাহের সময় যোয়তুক নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৮০ (পূর্বে আইপিসি-র ধারা ৩০৪বি) অনুযায়ী এই আইন সেইসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে বিবাহের সাত বছরের মধ্যে কোনো মহিলার মৃত্যু ঘটে তখনই সেই ঘটনাকে যৌতুক নেওয়ার অপরাধের আওতায় আনা হয়। বিশেসজ্ঞদের মতে দেশের পণপ্রথার কারণে হওয়া অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।